| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু |
| ২০ সেপ্টেম্বর | শ্রীলঙ্কা | দুবাই |
| ২৪ সেপ্টেম্বর | ভারত | দুবাই |
| ২৫ সেপ্টেম্বর | পাকিস্তান | দুবাই |
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু |
| ২০ সেপ্টেম্বর | শ্রীলঙ্কা | দুবাই |
| ২৪ সেপ্টেম্বর | ভারত | দুবাই |
| ২৫ সেপ্টেম্বর | পাকিস্তান | দুবাই |
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো ও ব্রাজিলের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন মোট ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক। বিশাল এই দর্শক সমাগম ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বৃহত্তম এই ভেন্যুর ভেতরে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই মরক্কো ও ব্রাজিলের সমর্থকেরা বিপুল সংখ্যায় স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। গ্যালারিজুড়ে পতাকা, নিজ নিজ দেশের জার্সি, স্লোগানের মাধ্যমে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যা ম্যাচ চলাকালীন সময়ে খেলোয়ারদের আলাদা অনুপেরণা যুগিয়েছে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে 'অ্যাটলাস লায়ন' খ্যাত মরক্কো মাঠে শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে, আর গ্যালারিতে মরক্কোর সমর্থকেরাও প্রথম বাঁশি থেকেই নিজেদের জোরালো উপস্থিতির জানান দেন। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমাইল সাইবারি এক গতিময় আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে মরক্কোর প্রথম গোলটি করলে গ্যালারির গর্জন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
খেলার ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে ব্রাজিল সমতায় ফিরলেও মরক্কো সমানতালে লড়াই চালিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোনো দলই জয়সূচক গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাধারণ ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮২,৫০০। সেই হিসাবে মরক্কো-ব্রাজিল ম্যাচটি প্রায় পূর্ণ গ্যালারির সামনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে এই ভেন্যুটি, যার মধ্যে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালও রয়েছে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস যার, সেই জার্মানির দিকে তাকালেই ফুটবল দুনিয়া এখনো দেখতে পায় এক অদম্য পরাশক্তিকে। চারটি বিশ্বকাপ, চারবার রানার্সআপ, চারবার তৃতীয় স্থান; পরিসংখ্যানের প্রায় প্রতিটি স্তরেই শক্ত অবস্থান জার্মানদের। কিন্তু ইতিহাস সব সময় বর্তমানের নিশ্চয়তা দেয় না। ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়; জার্মান ফুটবলের জন্য যা ছিল অকল্পনীয় এক ধাক্কা। এবার সেই বিকল হয়ে যাওয়া যন্ত্র আবারও চালু করার মিশন শুরু হচ্ছে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউসটনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ রাত ১১টায় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। প্রতিপক্ষ কুরাসাও; ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপদেশ, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। কাগজে-কলমে ব্যবধান আকাশ-পাতাল হলেও জার্মানি এবার কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি মানেই বড় মঞ্চের দল। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪; চারটি বিশ্বকাপ তাদের শোকেসে। আছে চারবার ফাইনালে হারের আক্ষেপও। আবার চারবার তৃতীয় হওয়ার রেকর্ডও তাদের। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনবার শিরোপা জিতেছে তারা। তবে সব সাফল্যের মাঝেও সাম্প্রতিক স্মৃতি খুব সুখের নয়। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, একই ঘটনা কাতারেও। এমন ব্যর্থতা জার্মানদের ইতিহাসে বিরল। তাই এবারের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয় বরং নিজেদের পুনরুদ্ধারের লড়াই।
সেই মিশনের নেতৃত্বে আছেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে নতুন ছন্দের দল গড়েছেন তিনি। এই দলটিতে আছে গতি, আছে সৃজনশীলতা, আছে আক্রমণের ধার। মাঝমাঠে জসুয়া কিমিচ, সামনে জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ; বর্তমান ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক জুটিগুলোর একটি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আক্রমণের কেন্দ্রে থাকবেন কাই হার্ভাটেজ, যিনি জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে ২২ গোল করেছেন।
সাম্প্রতিক ফর্মও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ৯ ম্যাচেই জয় পেয়েছে জার্মানি। এ বছর প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড, ঘানা, ফিনল্যান্ড এবং বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকেও। বাছাইপর্বেও ছিল দাপুটে পারফরম্যান্স।
তবু নাগেলসম্যান সতর্ক। ম্যাচের আগে জার্মান কোচ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ছোট দল বলে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, বিশ্বকাপে নাম নয়, মানসিকতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। অধিনায়ক কিমিচও একই সুরে কথা বলেছেন। সমর্থকরা বড় ব্যবধানে জয় চাইতে পারেন, কিন্তু দলের প্রথম লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে কুরাসাওয়ের জন্য এটি রূপকথার মতো যাত্রা। মাত্র দেড় লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটি বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠে এসেছে। আয়তন ও জনসংখ্যা; দুই দিক থেকেই তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি।
বিশ্ব র্যাকিংয়ে ৮২ নম্বরে থাকা দলটির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে তাদের ভয় নেই। কোচ ডিক অ্যাডভোকেট ও অধিনায়ক কুকো মার্টিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে এসেছে। জার্মানি ও কুরাসাও এর আগে কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়নি। ফলে আজকের ম্যাচই হবে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ। বিশ্বকাপে অনেক গল্প জন্ম নেয়। তবে জার্মানদের কাছে আজকের গল্পের নাম একটাই; প্রবল দাপটে ফিরে আসা।
ক্রেইগ বার্লির পর প্রথম স্কটিশ খেলোয়াড় হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়লেন জন ম্যাকগিন। রবিবার বস্টন স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে বল জালে জড়িয়ে তিনি এই ইতিহাস গড়েন।
অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে একটি শট নেন, যা ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে হাইতির গোলরক্ষককে ফাকি দিয়ে জালে জড়ায়। এই গোলের মধ্যদিয়ে স্কটল্যান্ড ১-০ এগিয়ে যায়।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর এটিই বিশ্বমঞ্চে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল। সেবার নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্লির করা গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল দলটি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর আবারও বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে স্কটল্যান্ড। এবার তাদের মূল লক্ষ্য ইতিহাসের প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। ফেবারিটদের রীতিমতো নাচিয়েছে তারা। ২১ মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের গোলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ম্যাচ।
রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুদলের লড়াই হয়েছে বেশ।
মরক্কোর হাই প্রেসিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। বল দখলে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে মরক্কো। প্রথম ৩০ মিনিটেই ১২টি শট নেয় তারা।
ম্যাচের ২১ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় মরক্কো। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ঠিক মাঝখান দিয়ে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। তিনি ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে গোল করেন।
গোল হজমের পর দ্রুতই ম্যাচে ফিরে ব্রাজিল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে লেফট উইং ধরে এগিয়ে যান ভিনি। সেখান থেকে পাস দেন ব্রুনো গিমায়েরেসের কাছে। বক্সে ফিরতি পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ শটে মরক্কোর জাল কাঁপান ভিনি। তাতে ১-১ গোলে সমতায় ফিরে ব্রাজিল।
ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠ ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। কাসেমিরো ও লুকাস পাকুয়েতা নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচে। এরপরও ভিনিসিয়ুসের করা গোলের সুবাদে ড্র নিয়ে মাঠে ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এসজি/
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-মরক্কো। ম্যাচের শুরু থেকে ব্রাজিলকে চেপে ধরে গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা। ম্যাচের ২১ মিনিটে গোল আদায় করে এগিয়ে যায় তারা। তবে ৩২তম মিনিটে মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয় দুদলের লড়াই।
ম্যাচের শুরু থেকেই হাই প্রেসিংয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের রক্ষণকে চাপে রাখে মরক্কো। ম্যাচের ১৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ইগর থিয়াগো। ভিনিসিয়ুসের দারুণ ক্রসে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় বল পান তিনি। কিন্তু তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। এর কয়েক মিনিট পরেই গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ার আক্ষেপে পুড়ে ব্রাজিল।
২১ মিনিটে গোল হজম করে বসে তারা। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ঠিক মাঝখান দিয়ে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। তিনি ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে গোল করেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে পড়ে ব্রাজিল। দ্রুতই ম্যাচে ফিরে তারা। ম্যাচের ৩২ মিনিটে লেফট উইং ধরে এগিয়ে যান ভিনি। সেখান থেকে পাস দেন ব্রুনো গিমায়েরেসের কাছে। বক্সে ফিরতি পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ শটে মরক্কোর জাল কাঁপান ভিনি। তার গোলে ১-১ সমতায় ফিরে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
সালমান/