সুপার ফোরের আগে দাপুটে ছিল শ্রীলঙ্কা। ভাবা হচ্ছিল এবারের এশিয়া কাপের যোগ্য দাবিদার। কিন্তু সুপার ফোরে উঠেই ধাক্কা খেতে হয়েছে বাংলাদেশের কাছে। এখন জয় ছাড়া পথ খোলা নেই দলটির কাছে। হেরে গেলেই বিদায়। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প কিছুই ভাবার সুযোগ নেই লঙ্কানদের
একই অবস্থা পাকিস্তানেরও। নির্বিঘ্নে সুপার ফোরে উত্তীর্ণ হলেও গ্রুপপর্বের মতো সুপার ফোরেও ধরাশায়ী হতে হয়েছে ভারতের কাছে। যদিও সেই ম্যাচের ফলাফল বা পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় বিতর্কিত বিষয়বস্তু। ফের ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ে ফাইনালে যেতে জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানেরও।
দুই দলেরই বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে ঠিক কে এগিয়ে? জমজমাট এক লড়াইয়ের আশায় থাকা সমর্থকদের মনে এই প্রশ্ন নিশ্চিতভাবেই উঁকি দিচ্ছে। সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয় সালমান আলি আগাদের জন্য। দুই দলের সবশেষ ৫ টি-টোয়েন্টির সবগুলোতেই হেরেছে পাকিস্তান।
এমন পরিসংখ্যান শ্রীলঙ্কার আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে পাকিস্তান শিবিরে। সবশেষ জয়টা ২০১৭ সালে। এখন থেকে ঠিক ৮ বছর আগে লাহোরে। সেবার ৩ ম্যাচ সিরিজের দুই ম্যাচ আবুধাবিতে খেলার পর শেষ ম্যাচটা খেলেছিল পাকিস্তান ঘরের মাঠে। সেখানেই জয় পায় ৩৬ রানের ব্যবধানে। সিরিজে লঙ্কানদের ধবলধোলাই করেছিল সরফরাজ আহমেদের দল।
কিন্তু এই লাহোরেই সরফরাজের দল ২০১৯ সালে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের ৩ ম্যাচ সিরিজের সবকটিতেই পরাস্ত হয় দাসুন শানাকার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার কাছে। ঘরের মাঠেই ৬৪, ৩৫ ও ১৩ রানের ব্যবধানে হেরে হয় ধবলধোলাই।
এরপর আর কোনো সিরিজ খেলেনি দুই দল। সবশেষ দুটি টি-টোয়েন্টিতে একে-অপরের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও এশিয়া কাপে। ২০২২ সালে দুবাইয়ের মাঠেই সুপার ফোরের ম্যাচে ৫ উইকেটে পরাজিত হওয়ার পর ফাইনালেও হার ২৩ রানের ব্যবধানে। অর্থ্যাৎ পাকিস্তানকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
৩ বছর পর দুই দল আবারও একে-অপরের প্রতিপক্ষ। সেই চেনা এশিয়া কাপের আসরে। মোট ২৩ বারের লড়াইয়ে ১৩ বারের জয়ে আধিক্য পাকিস্তানের হলেও এশিয়া কাপের সুখস্মৃতিতে নিশ্চিতভাবেই দুই দলের বাঁচা-মরার ম্যাচে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে শ্রীলঙ্কা।
তবে সবকিছু প্রমাণিত হবে মাঠে। ৮ বছরের জয়ের খরা কাটিয়ে পাকিস্তান নাকি সবশেষ ৫ ম্যাচ ও ২০২২ এশিয়া কাপের স্মৃতিটাই ধরে রাখে শ্রীলঙ্কা।
নিলয়/