তুমুল সম্ভাবনা জাগিয়েও জেতা হলো না। বাজে ফিল্ডিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাংলাদেশের মেয়েরা হেরেছে ৩ উইকেটে। দুটি ক্যাচ মিস ও কয়েকটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচ খুইয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
দক্ষিণ আফ্রিকা তখন জেতার জন্য দরকার ছিল ৪২ বলে ৫৩ রান। রাবেয়া খানের করা ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারিতে ট্রাইয়নের ক্যাচ ছাড়েন দ্বাদশ খেলোয়াড় সুমাইয়া। কেবল ক্যাচ ছাড়েননি, সেই বলে হয়েছে চারও। ফিফটি আদায় হয় সেই চারে। পরের বলে ৬ এবং ও শেষ বলে আবারও ৪। সবমিলিয়ে ১৬ রান আসে সেই ওভারে।
পরের ওভারে রিতু মনির ডিরেক্ট হিটে ট্রায়ন আউট হলেও, যা ক্ষতি হওয়ার ততক্ষণে হয়েই যায়। এরপরও কিছুটা সম্ভাবনা থাকলেও নাডিন ডি ক্লের্কের মারকুটে ব্যাটিংয়ে সেই সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে যায়। ফাহিমা খাতুনকে দুটি চার মারেন। একটি নো বলসহ সেই ওভারে আসে মোট ১১ রান।
বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা স্বর্ণাও ছেড়েছেন ক্যাচ। রাবেয়ার বলে আরও একটি ক্যাচ মিস হয়। বাউন্ডারিতে জায়গায় দাঁড়িয়েও ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি স্বর্ণা আক্তার। শেষ ওভারে প্রোটিয়াদের জেতার জন্য দরকার হয় ৮ রান।
প্রথম বলে নাহিদাকে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে চার মেরে ম্যাচ সহজ করে ফেলেন ক্লের্ক। পরের বল ডট দিলেও তৃতীয় বলে ফুলটস পেয়ে লেগ সাইডে সীমানা ছাড়া করতে ভুল করেননি। ফলে বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে জয় আদায় করে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা ৩ উইকেটে। চতুর্থ ম্যাচে টানা তৃতীয় জয় এটি দলটির।
যেই স্পিনাররা বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তারাই শেষ করে দেয় জয়ের আশা। ৬ ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও মাঠে ফিল্ডিং করা পেসার মারুফা আক্তারকে কেন বোলিং করানো হয়নি সেটি নিয়ে রয়ে গেছে ধোঁয়াশা।
আগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ সুপ্তা-স্বর্ণার জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ ২৩২ রানে দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল। এরমধ্যে ৩৪ বলে করা স্বর্ণার অর্ধশতকটি বাংলাদেশ নারী দলের ইতিহাসে দ্রুততম।
ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে অনুপ্রাণিত হয়ে বোলাররাও চেপে ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের। ৭৮ রানে তুলে নেয় ৫ উইকেট। এতে করে সম্ভাবনা জোরালো করে তুলেছে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের।
যার শুরুটা করেছিলেন নাহিদা আক্তার তাজমিন ব্রিটসে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে গোল্ডেন ডাকে সাজঘরে ফিরিয়ে। ৩ রানেই প্রোটিয়ারা হারায় প্রথম উইকেট। ৩১ রান করে অধিনায়ক লরা লরা ওলভার্ট রানআউট হন দলীয় ৫৮ রানে।
৪ রান পরই রিতু মনির বলে বড় শট খেলার প্রচেষ্টায় মিড অফে আটকা পড়েন ২৮ রান করা আন্নেকে বোশ সোবহানা মোস্তারির হাতে। বোর্ডে ২ রান যোগ হতেই আবারও উইকেটের পতন। এবার আনরিয়ে ডার্কসেন রাবেয়া খানের টার্নে বোল্ড হন ২ রান করে। ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে প্রোটিয়ারা
চাপ সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন সিনালো জাফতাও। ৪ রান করে তিনি বোল্ড হলে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা। পরে প্রোটিয়ারা ম্যাচে ফেরে ক্লোয়ে ট্রায়ন ও মারিজান ক্যাপের ৮৫ রানের জুটিতে। মারিজানকে নাহিদা ফেরান দলীয় ১৬৩ রানে স্বর্ণার ক্যাচ বানিয়ে। ফলে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়। কিন্তু এরপর দুটি ক্যাচ মিস ও রানআউটের একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় কপাল পোড়ে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ দটি উইকেট শিকার করেন। একটি করে উইকেট পান রাবেয়া, ফাহিমা ও রিতু। ব্যাট হাতে ট্রায়ন ৬২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেন ১ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
নিলয়/