আবারও তীরে এসে ডুবল তরী। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জেতার পথে থাকা ম্যাচের শেষদিকে ৭ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭ রানের পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো বাংলাদেশ নারী দলের। এই ৭ বলে বাংলাদেশের বোর্ডে রান যোগ হয়েছে মাত্র ১।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা বাংলাদেশ নারী দল হারল টানা পঞ্চম ম্যাচ। এরমধ্যে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও তৃতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আম্পায়ারের ভুল কপাল পুড়িয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাজে ফিল্ডিংয়ে হারের পর সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার ম্যাচে আকস্মিক ধসে ৭ রানে পরাজিত সরোয়ার ইমরান শীষ্যরা। ফলে নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দারুণ বোলিংয়ে ২০২ রানে শ্রীলঙ্কার মেয়েদের আটকে রাখার পর পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নামা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ৪৪ রানে হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। যার শুরুটা হয়েছিল দলীয় ২ রানে রুবিয়া হায়দারের বিদায়ে। এরপর দলীয় ২৪ রানে রানআউট হন ফারজানা হক (৭)। সোবহানা মোস্তারিও ব্যর্থ হন দায়িত্ব নিতে। মাত্র ৮ রানে ফেরেন সাজঘরে।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন তিনে নামা শারমিন আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ৮২ রানের জুটি গড়ীন এই দুই ব্যাটার। দলীয় ১২৬ রানে শারমিন আক্তার ব্যক্তিগত ৬৪ রানে চোট পেয়ে ছাড়েন মাঠ। সেটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ নারী দলের জন্য। জয়ের জন্য তখন দরকার ছিল ৮৭ বলে ৭৭ রান।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি রানের গতি ধরে রাখলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি বাকি সতীর্থরা। স্বর্ণার সঙ্গে ৫০ রানের জুটিতে ম্যাচ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ২৯ বলে ২৭ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের জয়ের। এরপরও সেই ম্যাচ জেতা হয়নি।
শেষ ১২ বলে যখন জয়ের জন্য দরকার ১২ রান। প্রথম বল ডট দেন রিতু মনি। পরের বলে নেন একটি সিঙ্গেল। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নেন নিগারও। চতুর্থ বলে রিতু বোল্ড হয়ে যান। পঞ্চম বল ডট দিয়ে ওভারের শেষ বলে ১ রান নেন রাবেয়া।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ৯। বোলিং করতে আসেন লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। টানা ৪ বলে তুলে নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটটি নাহিদা হন রানআউট। প্রথম বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রাবেয়া। তৃতীয় বলে আশার প্রতীক হয়ে থাকা নিগার বড় শট খেলে ক্যাচ দেন সিল্ভার হাতে। ৭৭ রান করেও তিনি পারেননি দলকে জেতাতে। আবারও লেগ বিফোরে উইকেট পান প্রতিপক্ষের অধিনায়ক আতাপাত্তু। এবার শিকার নাহিদা। পঞ্চম বলে বাউন্ডারির কাছাকাছি উড়িয়ে মেরেও কেবল ১ রান পান নিশিতা।
শেষ বলে দরকার ৮ রানের। চোট নিয়েও মাঠে ফেরা শারমিন শেষ বলে ব্যাটের সঙ্গে বলের সংযোগ ঘটাতে পারেননি। বাংলাদেশ পরাজিত হয় ৭ রানে। টানা ৫ পরাজয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় বিদায়। শারমিন অপরাজিত ছিলেন ৬৪ রানে। ৯ উইকেটে বাংলাদেশ করতে সমর্থ হয় ১৯৫ রান।
চামারি আতাপাত্তু শিকার করেছেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। দুটি পেয়েছেন সুগন্ধিকা ও ১ উইকেট পেয়েছেন উদেশিকা। ৮৫ রান করে ম্যাচসেরা হাসিনি পেরেরা।
নিলয়/