তিন কাঠির খেলা ক্রিকেটে অনেক শব্দ আছে। সেখানে নতুন করে যোগ হয়েছে ‘কালো’ শব্দটি। আর এই শব্দের জনক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিসিবি ‘কালো’ রঙের উইকেট বানিয়ে এর জনক হয়ে যায়। যে উইকেটের সঙ্গে দুই দলেরই প্রথম পরিচয় ঘটে। ফলাফল গিয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে। কালোর সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে তুলে নিয়েছে ৭৪ রানের জয়। যে জয়টা ছিল বহুল কাঙ্ক্ষিত। বিশেষ করে আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজে ভরাডুবির পর। আর কালোতেই যেন পেল আলোর দেখা। কিন্তু এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
জয়টা বাংলাদেশ দলের জন্য বহু কাঙ্ক্ষিত হলেও এমন জয়ে কেউই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারছেন না। কারণ এমন জয়কে অনেকেই ‘ডুমুরের ফুল’ বলে অভিহিত করছেন। ডুমুরের ফুল যেমন সকালে ফোটে বিকেলে ঝরে যায়, তেমনি এমন জয়ে বাংলাদেশ দলের প্রকৃত শক্তিমত্তার পরিচয় বহন করে না। কারণ এমন পিচ তো আর সবসময় সব জায়গাতে পাওয়া যাবে না। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে পিচের আবরণ কী রকম হবে- এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে। জয়টা বাংলাদেশের কাছে মুখ্য, তা যেভাবেই আসুক। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর এবার দৃষ্টি প্রসারিত হয়েছে সিরিজ জয়ের দিকে। আজ জিতলেই সেই মনোবাসনাও পূর্ণ হবে।
পিচের আবরণ যে পরিবর্তন হচ্ছে না, বা হলেও সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন হবে না, তা বোঝা যায় দলে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের অন্তর্ভুক্তি। ওয়ানডে ক্রিকেটে অনিয়মিত এই বাঁহাতি স্পিনারকে দলে নেওয়া মানেই সেরা একদাশে খেলানো, শক্তি বাড়ানো। একাদশে তার জায়গা হতে পারে একজন স্পিনারের পরিবর্তে, আবার এমনো হতে পারে পেসার কমিয়ে স্পিনার বাড়িয়ে স্পিন আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে তোলা! সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে হলে স্লো পিচের বিকল্প নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও স্পিনার আছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশের স্পিনারদের মতো ভয়ংকর নন। এদিকে বাংলাদেশ স্বাগতিক হওয়াতে তারা হুট করে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। এদিকে বসে নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজও। তারা উড়িয়ে আনছে আকিল আহমেদের মতো স্পিনারকে। গতকাল রাতেই তার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে তাকে আজ সেরা একাদশে দেখাও যেতে পারে। প্রথম ম্যাচে দুই দলই তিনজন করে স্পিনার নিয়ে খেলেছে। আজও তাই থাকবে। এমন কি একাদশে চার স্পিনার থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এটি দুই দলেই হতে পারে আবার যেকোনো এক দলেও হতে পারে। সেরা একাদশে স্পিনারদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে আসা স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বিষয়টি তিনি প্রধান কোচ ও অধিনায়কের ওপর নির্ভর করছে বলে তাদের কোর্টে বল ছেড়ে দেন। পিচ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার খারি পিয়েরে জানান, উইকেটকে তারা অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না। দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
আজকের ম্যাচে খেলা হবে তাই স্পিনারদের। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছিল ৪৯.৪ ওভার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন স্পিনার মিলে বল করেন ৩০ ওভার। ৯৩ রান দিয়ে তারা উইকেট নেন ৪টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেছিল মাত্র ৩৯ ওভার। বাংলাদেশের চার স্পিনার (সাইফ হাসানসহ) মিলে বল করেন ৩২ ওভার। ১০৪ রান দিয়ে উইকেট নেন ৮টি। যেখানে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন একাই নিয়েছিলেন ৩৫ রানে ৬ উইকেট। ম্যাচে ৫ বা ততোধিক উইকেট পাওয়া ছিল তার প্রথম। আবার তার এই বোলিং বাংলাদেশের এখন চতুর্থ সেরা। তার ওপরে থাকা তিনজনই পেসার। তাই আজকের ম্যাচে ব্যাটারদের জন্য অপেক্ষা করছে অগ্নিপরীক্ষা। সে পরীক্ষায় টিকে তারা দলের জন্য কতটা কার্যকরী হতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়?
এই যে পিচ নিয়ে এত কথা! এর পেছনে লুকিয়ে আছে একটি বিশেষ লক্ষ্য। আর তা হলো, ২০২৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যাতে করে সরাসরি খেলার জায়গা করে নিতে পারে। তার জন্য র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে থাকতে হবে। আবার নয়ে থাকলেও চলবে। কারণ দুই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি খেলবে। র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান ওপরের দিকে। তারা যদি আটের ওপরে থাকে, সে ক্ষেত্রে নয়ে থাকা দলও সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের বর্তমান র্যাঙ্কিং ১০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নয়। দুই দলের রেটিং পয়েন্টের ব্যবধানও কম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮০, বাংলাদেরে ৭৪। এই সিরিজে সব কটি ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নয়ে চলে আসতে পারে। তাই এত আয়োজন। একটি ম্যাচও হাতছাড়া করা যাবে না।
পলাশ/নিলয়/