বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস যার, সেই জার্মানির দিকে তাকালেই ফুটবল দুনিয়া এখনো দেখতে পায় এক অদম্য পরাশক্তিকে। চারটি বিশ্বকাপ, চারবার রানার্সআপ, চারবার তৃতীয় স্থান; পরিসংখ্যানের প্রায় প্রতিটি স্তরেই শক্ত অবস্থান জার্মানদের। কিন্তু ইতিহাস সব সময় বর্তমানের নিশ্চয়তা দেয় না। ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়; জার্মান ফুটবলের জন্য যা ছিল অকল্পনীয় এক ধাক্কা। এবার সেই বিকল হয়ে যাওয়া যন্ত্র আবারও চালু করার মিশন শুরু হচ্ছে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউসটনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ রাত ১১টায় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। প্রতিপক্ষ কুরাসাও; ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপদেশ, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। কাগজে-কলমে ব্যবধান আকাশ-পাতাল হলেও জার্মানি এবার কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি মানেই বড় মঞ্চের দল। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪; চারটি বিশ্বকাপ তাদের শোকেসে। আছে চারবার ফাইনালে হারের আক্ষেপও। আবার চারবার তৃতীয় হওয়ার রেকর্ডও তাদের। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনবার শিরোপা জিতেছে তারা। তবে সব সাফল্যের মাঝেও সাম্প্রতিক স্মৃতি খুব সুখের নয়। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, একই ঘটনা কাতারেও। এমন ব্যর্থতা জার্মানদের ইতিহাসে বিরল। তাই এবারের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয় বরং নিজেদের পুনরুদ্ধারের লড়াই।
সেই মিশনের নেতৃত্বে আছেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে নতুন ছন্দের দল গড়েছেন তিনি। এই দলটিতে আছে গতি, আছে সৃজনশীলতা, আছে আক্রমণের ধার। মাঝমাঠে জসুয়া কিমিচ, সামনে জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ; বর্তমান ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক জুটিগুলোর একটি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আক্রমণের কেন্দ্রে থাকবেন কাই হার্ভাটেজ, যিনি জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে ২২ গোল করেছেন।
সাম্প্রতিক ফর্মও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ৯ ম্যাচেই জয় পেয়েছে জার্মানি। এ বছর প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড, ঘানা, ফিনল্যান্ড এবং বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকেও। বাছাইপর্বেও ছিল দাপুটে পারফরম্যান্স।
তবু নাগেলসম্যান সতর্ক। ম্যাচের আগে জার্মান কোচ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ছোট দল বলে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, বিশ্বকাপে নাম নয়, মানসিকতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। অধিনায়ক কিমিচও একই সুরে কথা বলেছেন। সমর্থকরা বড় ব্যবধানে জয় চাইতে পারেন, কিন্তু দলের প্রথম লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে কুরাসাওয়ের জন্য এটি রূপকথার মতো যাত্রা। মাত্র দেড় লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটি বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠে এসেছে। আয়তন ও জনসংখ্যা; দুই দিক থেকেই তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি।
বিশ্ব র্যাকিংয়ে ৮২ নম্বরে থাকা দলটির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে তাদের ভয় নেই। কোচ ডিক অ্যাডভোকেট ও অধিনায়ক কুকো মার্টিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে এসেছে। জার্মানি ও কুরাসাও এর আগে কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়নি। ফলে আজকের ম্যাচই হবে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ। বিশ্বকাপে অনেক গল্প জন্ম নেয়। তবে জার্মানদের কাছে আজকের গল্পের নাম একটাই; প্রবল দাপটে ফিরে আসা।