নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার জন্য লড়বে বাংলাদেশ। এই মিশনের জন্য এরই মধ্যে ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। যে দলে রাখা হয়নি মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তারকে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বপ্না ও মুনকি জাতীয় দল ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন। তাদের না থাকাটা তাই বড় শিরোনামই। এই দুই মিডফিল্ডারই ২০২৪ সালের সাফজয়ী দলের অংশ ছিলেন। স্বপ্না ২০২২ সালের সাফজয়ী দলেরও অংশ ছিলেন।
সবশেষ সাফজয়ী দল থেকে স্বপ্না ও মুনকিসহ মোট ১০ ফুটবলার এবারের দলে নেই। অন্যরা হলেন- গোলরক্ষক মোছা. ইয়ারজান, ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন ও নিলুফা ইয়াসমীন নিলা, মিডফিল্ডার আইরিন খাতুন এবং ফরোয়ার্ড সুমাইয়া মাতসুসিমা, সানজিদা আক্তার, সাবিনা খাতুন ও কৃষ্ণা রানী সরকার।
অবশ্য সাবিনা-মাছুরারা অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে আছেন। ২০২৪ সালে নেপাল থেকে সাফ জয় করে ফিরে কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা করেছিলেন ১৮ ফুটবলার। পরে নানা নাটকীয়তার পর বিদ্রোহের অবসান ঘটলে ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাসহ অনেককেই বাটলার তার দলে ফেরান। কিন্তু সাবিনা, কৃষ্ণা, সানজিদা, মাছুরা, সুমাইয়া, নীলাদের আর ডাকেননি। ফলে সাফের স্কোয়াডে তাদের না থাকাটা অনুমিতই ছিল।
তবে স্বপ্না ও মুনকি, যারা কি-না সাম্প্রতিক সময়ে বাটলারের দলে নিয়মিত হয়ে উঠেছিলেন, তাদের না থাকাটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সবশেষ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র এশিয়ান কাপ ও থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপেও দুজন খেলেছেন।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত মুখদের মধ্যে নবিরন খাতুনও দলে নেই। তার না থাকাটা চোটের কারণে। তবে স্বপ্না-মুনকি শৃঙ্খলা ও পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েছেন বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন কোচ পিটার বাটলার।
বুধবার (৬ মে) বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেছেন, ‘স্বপ্না ও মুনকির পারফরম্যান্স খারাপ ছিল। ওরা সঠিক স্তরে পারফর্ম করেনি। কথাও শুনেনি। আশা করি, একদিন ওরা বুঝতে পারবে যে আমি ওদের উপকার করছি।’
সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই দলেরও অংশ ছিলেন না স্বপ্না ও মুনকি। এবার প্রথমবারের মতো সিনিয়র সাফ খেলবেন স্বর্ণা রানী মন্ডল, হালিমা আক্তার, সুরমা জান্নাত, সুরভী আরফিন, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মোমিতা খাতুন ও উমেহ্লা মারমা।
সাফের এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে ভারতের গোয়ায়। আগামী ২৫ মে শুরু হবে আসর। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন। বাংলাদেশ দল ভারতে যাওয়ার আগে থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহ কন্ডিশনিং ক্যাম্প করবে। সেখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। আগামীকালই থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে তারা।
২৩ সদস্যের স্কোয়াড:
রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মন্ডল, হালিমা আক্তার, শিউলি আজিম, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), সুরমা জান্নাত, কোহাতি কিসকু, সুরভী আরফিন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, উন্নতি খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, মোমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, শাহেদা আক্তার রিপা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেহ্লা মারমা, মোছাম্মৎ সাগরিকা, তহুরা খাতুন, আনিকা রানী সিদ্দিকী, সৌরভী আকন্দ প্রীতি ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।
তোফায়েল/এসজি/