বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে তামিম ইকবাল প্যানেল গুছাচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হবে না। ২৩টি পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই নির্বাচিত হবেন। তিনি নিজেও গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ওপেন নির্বাচন হবে। যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করবে। তার এক কথার প্রমাণ মিলেছে গতকাল মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিন। যেখানে ২টি পদ ছাড়া বাকি ২১টি পদেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তামিম ইকবালের ‘বি’ ক্যাটাগরিতেই ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সব মিলিয়ে দুই দিনে ২৩টি পরিচালক পদের বিপরীতে ৩৯ জন প্রাথীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জমা দিয়েছেন ২৩ জন। আজ জমা দেওয়ার শেষ দিন।
বিসিবির নির্বাচন হয়ে থাকে ৩ ক্যাটাগরিতে। এর মাঝে ‘সি’ ক্যাটাগরি থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তার মনোনয়নপত্র বৈধ্য হলেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। কিন্তু বিসিবির গঠনতন্ত্রে কোয়াব থেকে শুধু কাউন্সিলর হয়ে ভোটা দেওয়া যায়। নির্বাচন করার এখতিয়ার নেই। একইভাবে বিসিবির সভাপতির কোটায় সাবেক ৫ অধিনায়কও শুধু ভোট দিতে পারেন। প্রার্থী হতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন প্রথমে বিদ্যুতের বিষয়টি খেয়াল করেনি। পরে গতকাল তাকে ডেকে তার মনোনয়নপত্র কেনার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে রাজশাহী বিভাগের বগুড়ায় কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এই বিভাগে একটি পরিচালক পদের বিপরীতে আর কোনো কাউন্সিলর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তার মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
বিসিবির নির্বাচনে সবার নজর থাকে ঢাকার ক্লাব কোটার ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। এখানে ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৯ জন। ‘এ’ ক্যাটাগরি ঢাকা বিভাগে ২টি পরিচালক পদের বিপরীতে ৪ জন। চট্টগ্রামেও পরিচালক পদ ২টি। এখানে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৩ জন। খুলনায় ২টি পরিচালক পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্বাচনে অবতীর্ণ হবেন ৩ জন। এ ছাড়া রংপুরে ১টি পরিচালক পদের বিপরীতে ৪ জন, বরিশাল ও সিলেটে ১টি করে পরিচালক পদের বিপরীতে ২ জন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
‘বি’ ক্যাটাগরি
তামিম ইকবাল (ওল্ড ডিওএইচএস), ফাহিম সিনহা (আবাহনী), রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স), মাসুদুজ্জামান (মোহমেডান), শাহনিয়ান তানিম নাভিন (মেরিনার ইয়াংস ক্লাব), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), আসিফ রাব্বানি (শাইনপুকুর), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (ওয়ান্ডারারার্স ক্লাব), লুৎফুর রহমান বাদল (লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ), মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স, ফৈয়াজুর রহমান (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), মোহম্মদ ফায়জুর রহমান ভূঁঞা (ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব), সফিক আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব), মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) (কাঁঠালবাগান গ্রিন ক্রিকেট একাডেমি) এবং এম নাজমুস সাকিব (সূর্য তরুণ ক্লাব)।
‘এ’ ক্যাটাগরি
ঢাকা বিভাগ: আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান (জামালপুর জেলা), সাঈদ বিন জামান (ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা), জসিম উদ্দিন খান খসরু (গোপালগঞ্জ জেলা), খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী জেলা)।
চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন নান্নু (চট্টগ্রাম জেলা), মঈন উদ্দিন চৌধুরী কামরু (লক্ষ্মীপুর জেলা), শরিফুল ইসলাম অপু (ফেনী জেলা)।
খুলনা বিভাগ: মো. শফিকুল আলম (খুলনা জেলা), শান্তনু ইসলাম (যশোর জেলা), মো. আব্দুছ ছালাম (চুয়াডাঙ্গা)।
রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম সীমান্ত (বগুড়া জেলা)।
সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা), মো. দেলোয়ার হোসেন (সুনামগঞ্জ)।
বরিশাল বিভাগ: মো. মিজানুর রহমান (বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা), মো. মুনতাসির আলম চৌধুরী (ভোলা জেলা)
রংপুর বিভাগ: মো. সামসুজ্জামান সামু (রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা), সাইফুল ইসলাম (রংপুর জেলা), মির্জা ফয়সাল আমীন (ঠাকুরগাঁও জেলা), মো. শহীদুজ্জামান শহীদ (গাইবান্ধা)।
মহিউদ্দিন পলাশ/অনিক/