চীন সম্প্রতি রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে এতে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত রবিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ান জানিয়েছে, চীনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিরল খনিজ উপাদানগুলো চিপ শিল্পে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় ধাতু থেকে ভিন্ন। তাই এই মুহূর্তে চিপ উৎপাদনে কোনো উল্লেখযোগ্য বাধার আশঙ্কা নেই।
গত বৃহস্পতিবার চীন তাদের বিরল খনিজ রপ্তানি নীতিমালায় পরিবর্তন এনে নতুন পাঁচটি উপাদান যুক্ত করেছে। এ ছাড়া চিপ ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত উত্তেজনার মধ্যে বেইজিং এই খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করল।
তাইওয়ানের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করে বলেছে, দেশে প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ বা এসব থেকে তৈরি পণ্য মূলত ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান থেকে আমদানি করা হয়। ফলে চীনের এই পদক্ষেপে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।
তাইওয়ান বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির প্রধান কেন্দ্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত চিপগুলোর অধিকাংশ এখানে তৈরি হয়।
তবে মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, চীনের এই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের কারণে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ড্রোনের মতো পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই এর সার্বিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এর আগে চীন তাদের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। তারা বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং এসব খনিজের সামরিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।