এক লাখের গণ্ডি ছাড়িয়েছে সোনার দাম। সামনে শীতকাল—বিয়ে মৌসুম। এই দামে কীভাবে সোনা কেনা সম্ভব, তা নিয়ে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। এমন সময় সামনে এল বুলগেরিয়ার ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের ভবিষ্যদ্বাণী, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠেছে সোনার বাজার।
সোনা কেবল গয়না নয়, বহু ঘরে এটি আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রেও এই সোনালি ধাতুর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সোনা।
বাবা ভাঙ্গা তার ভবিষ্যদ্বাণীতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সহজ হবে না। সেই বছর বড় ধরনের আর্থিক দোলাচল ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি, বাজারে অস্থিরতা এবং করনীতির পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বড় বড় সোনার ভাণ্ডারে টান পড়বে। ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সোনার বাজারেও প্রভাব ফেলবে।
তার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রচলিত ব্যাংকিং ও নগদ অর্থ লেনদেনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে বিকল্প নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা আবারও বাড়বে। ইতিহাস বলে, অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে সোনার দাম ২০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
যদি ২০২৬ সালে সত্যিই বৈশ্বিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে সোনার দাম ২৫–৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভারতে ১০ গ্রাম সোনার দাম পৌঁছাতে পারে ১,৬২,৫০০ থেকে ১,৮২,০০০ টাকা পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের পুঁজি আছে, তাদের জন্য এখনই সোনায় বিনিয়োগের সময় হতে পারে। কারণ একদিকে বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েন, অন্যদিকে ভারতের মতো দেশে সোনা কেবল মূল্যবান ধাতু নয়, সংস্কৃতিরও অঙ্গ। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা।
তবে বিনিয়োগের আগে কোথায় বিনিয়োগ করছেন এবং সেটি কতটা নিরাপদ—তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
মেহেদী/