কল্পনা নয়, বাস্তবেই পৃথিবীতে এমন একটি রাস্তার রয়েছে যার ৩০ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ১৯,০০০ মাইল) পথে একবারও ইউ-টার্ন নিতে হবে না। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে।
প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে উত্তর আমেরিকার আলাস্কার ‘প্রুডো বে’ থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার লম্বা এই মহাসড়কটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।
আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে স্থলপথের ধারণাটি শুরুতে রেলপথ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১৮৮৪ সালে মার্কিন কংগ্রেস আন্তঃআমেরিকান রেল ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে একটি আইন পাস করে।
১৮৮৯ সালে প্রথম প্যান-আমেরিকান সম্মেলনে এটি নিয়ে আলোচনা করা হলেও নির্মাণকাজ কখনও শুরু হয়নি। ১৯০৩ সালে পানামার স্বাধীনতার পর, যখন খালের কাজ শুরু হয়েছিল, তখন এই ধারণাটি বাতিল করা হয়।
টানা ১৪টি দেশের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত এই সড়কটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম মোটরযান চলাচলযোগ্য রাস্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
রাস্তাটি মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা এবং পানামা হয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবেশ করেছে। এরপর এটি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলি ও আর্জেন্টিনার ওপর দিয়ে চলে গেছে। যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর অংশে এই রুটের একাধিক বিকল্প পথও রয়েছে।
সাধারণত এই বিশাল পথটি অতিক্রম করতে একজন ভ্রমণকারীর প্রায় ৬০ দিন বা দুই মাস সময় লাগে। তবে এটি নির্ভর করে যানবাহনের গতি এবং যাত্রাপথে বিরতির ওপর। যেমন, কার্লোস সান্তামারিয়া নামের এক পর্যটকের এই পুরো পথটি শেষ করতে ১১৭ দিন সময় লেগেছিল।
এই মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এটি তৈরির চিন্তা করা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ এই রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ১৯৬০ সালে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।
সুলতানা দিনা/