বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় মোট বনভূমির পরিমাণ খুবই কম। তা সত্ত্বেও কয়েক দশক ধরে নির্বিচারে দেশের বনাঞ্চল কেটে উজাড় করা হচ্ছে। যার কারণে সবুজ শ্যামলে ভরা প্রকৃতির অপরূপ সমারোহ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর যে পরিমাণ গাছ কাটা হয় সে তুলনায় গাছ লাগানো হয় কম। এর ফলে গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে আর বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। যার কারণে পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল থাকে। আর এ অক্সিজেন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খুবই জরুরি। যেহেতু গাছ কাটার তুলনায় নতুন গাছ কম লাগানো হচ্ছে তাই বাতাসে বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। ফলে পরিবেশ উষ্ণ হচ্ছে আর জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। একমাত্র বৃক্ষই প্রাকৃতিক পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে পারে। তাই বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।
বৃক্ষরোপণের জন্য বর্ষাকালই উপযুক্ত সময়। এ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা সহজেই পাওয়া যায়। বৃষ্টির পানি গাছের শিকড়কে দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে। গাছ সহজেই মাটিতে স্থাপিত হতে পারে। বর্ষায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। যা গাছের জন্য উপকারী। ফলে গাছপালা দ্রুত বাড়ে।
বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণের কিছু সুবিধা নিচে উল্লেখ করা হলো-
সহজে স্থাপন
বৃষ্টির কারণে মাটি নরম থাকে। ফলে গাছ রোপণ করা সহজ হয় এবং শিকড় দ্রুত মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
কম তাপমাত্রা
বর্ষাকালে তাপমাত্রা সাধারণত কম থাকে। যা গাছের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাদের দ্রুত বাড়তে সহায়তা করে।
পর্যাপ্ত আর্দ্রতা
বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে, যা গাছের বৃদ্ধি এবং শিকড় বিস্তারের জন্য অপরিহার্য।
প্রাকৃতিক সেচ
বৃষ্টির পানি গাছের জন্য প্রাকৃতিক সেচের কাজ করে। যা গাছের বৃদ্ধি এবং বিকাশে সহায়তা করে। ফলে আলাদা সেচের ব্যবস্থা করতে হয় না। বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত। তবে চারা গাছ রোপণ করে চুপচাপ বসে থাকলে চলবে না। এর পর্যাপ্ত যত্নও নিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিচর্যা:
১. চারা গাছ রোপণের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত কাঠি দিয়ে সোজা করে বেঁধে দিতে হবে।
২. গরু-ছাগল যেন কোনো ক্ষতি করতে না পারে এজন্য গাছের চারপাশে বাঁশের খাঁচা দিয়ে দিতে হবে।
৩. চারা গাছের গোড়ায় জন্মানো আগাছা দমন করতে হবে।
৪. চারা সোজা রাখা ও নির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক রাখতে অবাঞ্ছিত ডালপালা কেটে ফেলতে হবে।
৫. মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য জন্য শুকনো লতাপাতা, খড়কুটো, কচুরিপানা দিয়ে চারা গাছের গোড়ায় মালচিং করতে হবে।
৬. কোনো চারা গাছ দুর্বল, রোগাক্রান্ত বা মারা গেলে ওই জায়গায় একটি নতুন সবল চারা গাছ লাগাতে হবে।
৭. বৃষ্টি না হলে রোপণের পর ঝরনা দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. দ্রুত বৃদ্ধির জন্য রোপণের একমাস পর গোড়ার এক ফুট দূর দিয়ে নালা করে ১০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার দিতে হবে।
৯. ফল গাছে বর্ষার আগে ও পরে বয়স এবং জাতভেদে একবার পরিমাণমতো জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হবে।
১০. প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর পুরোনো, রোগাক্রান্ত, মরা ডালপালা ছেটে দিতে হবে।
১১. রোদ ও আলো-বাতাস চলাচল বাড়িয়ে দিতে পারলে পরের বছর নতুন ডালপালায় ফুল-ফল বেশি হবে।
১২. রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কৃষি বিভাগ, হর্টিকালচার সেন্টার বা বন বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।
তারেক
.jpg)