আনিস সাহেবকে এই প্রথমবার মোবাইল ফোন ছাড়াই অফিসে যেতে হয়েছে। তবু তিনি সামলে নিয়েছেন। ইদানীং ফোনটি বাড়িতে রেখে যেতে হয়। কারণ, মেয়েদের অনলাইন ক্লাস চলছে। একদিন তিনি খেয়াল করলেন অনলাইন ক্লাস নিয়ে মেজো মেয়ে বেজায় খুশি। কিন্তু বাকি দুই মেয়ের বদন রীতিমতো মেঘলা আকাশ! কেমন চলছে অনলাইন ক্লাস? এমন প্রশ্নের উত্তরে মেজো মেয়ে বলল, ‘ক্লাস ভালোই চলছে! তবে নেটওয়ার্কের সমস্যায় গণিত ক্লাসে বুঝতে সমস্যা হয়। কথা আটকে যায়। মাঝে মাঝে স্পিকারের আওয়াজ ভাঙা রেডিওর মতো লাগে!’
আরো পড়ুন: বিয়ের পর ঘুরতে যাওয়াকে ‘হানিমুন’ কেন বলে?
মেয়ের কথা শুনে আনিস সাহেব মুচকি হাসলেন। এবার ছোট ও বড় মেয়েকে ডাকলেন। হাসিমুখে আনিস সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের অনলাইন ক্লাস নিশ্চয় ভালো হচ্ছে?’ বড় মেয়ে বলল, ‘বাবা তুমি হয়তো ভুলেই গেছ আমাদের মোবাইল মাত্র একটা। আর অনলাইন ক্লাস চলছে তোমার তিন মেয়ের। স্যাররা স্কুলে বসেই প্রায় একই সময়ে ক্লাস নিলে আমরা একটা মোবাইলে তিনজন ক্লাস করব কীভাবে?’
ছোট মেয়ে বলল, ‘বাবা, অনলাইন ক্লাস বড়দের জন্য হওয়া উচিত। আমাদের মতো ছোটদের কেন অনলাইন ক্লাস করতে হবে?’
এসব শুনে আনিস সাহেব নিজের একাধিক মোবাইল ফোন না থাকার অক্ষমতা মেনে নিয়ে মেয়েদের আশ্বস্ত করে বললেন, ‘কিছু কিছু সময় অনলাইন ক্লাস দেশের স্বার্থে ভালো।’
বড় মেয়ে এবার যুক্তি দিয়ে বলল, ‘আচ্ছা বাবা, স্যাররা তো স্কুলে যার যার ক্লাসে বসে লাইট-ফ্যান চালিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। আবার শিক্ষার্থীরা যার যার বাসায় বসে লাইট-ফ্যান চালিয়ে ক্লাস করছে? তাহলে কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে? আর কারেন্টের যে অবস্থা! কারেন্ট না থাকলে ওয়াইফাই বন্ধ? আবার ডেটা কিনতে হচ্ছে!’
মেয়েদের কথা শুনে আনিস সাহেব নড়েচড়ে বসলেন। এদিকে চার দেয়ালের মাঝে প্রাণহীন ডিজিটাল স্লাইড, যান্ত্রিক ত্রুটি আর একাকিত্বের বেড়াজালে মেজো মেয়ে একটু একটু করে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে! বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে পড়ার সুযোগ নেই। মোবাইল আর ল্যাপটপের নীল আলোয় চাপা পড়েছে ক্লাসের সেই হাসাহাসি, সেই চঞ্চলতা। আনিস সাহেব ভাবলেন, পরিকল্পনা ছাড়া অনলাইন ক্লাস অনেকটা দায়সারা গোছের! অনলাইন ক্লাস আমরা চাই নাকি পৃথিবী চাই–তা জানা নেই আনিস সাহেবের!
সহকারী শিক্ষক
লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়
মুন্সীগঞ্জ
তারেক/
.jpg)