বিচিত্র পৃথিবীতে রহস্যের শেষ নেই। এখানে আছে নানা রকম জায়গা, দেশ, জাতি ও সংস্কৃতি। আছে প্রাকৃতিক নানা বিচিত্র উপাদান। তেমনি এক উপাদান ডিগলুপ্তা ইউক্যালিপটাস। যা রেইনবো ইউক্যালিপটাস নামেও পরিচিত। এটি অত্যাশ্চর্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ, যা তার বাকলের জন্য বিখ্যাত। এর অদ্ভুদ সুন্দর বাকলের জন্য এর নাম রেইনবো ইউক্যালিপটাস বা রংধনু ইউক্যালিপটাস।
এই গাছের বাকল সবুজ থেকে নীল, বেগুনি, কমলা, লাল এবং ধূসর রঙে পরিবর্তিত হতে থাকে। যা দেখতে প্রাণবন্ত রংধনুর মতো মনে হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ গাছে তেলরং মেখে দিয়েছে। সারি সারি লম্বা রংমাখা গাছ দাঁড়িয়ে আছে।
ইউক্যালিপটাস গাছ প্রায় সব মহাদেশেই দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীতে এর প্রায় ৭০০ প্রজাতি আছে। বেশ লম্বা এই গাছ সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে কাজ করে। তবে গাছটি পানি শোষণকারী এবং শুষ্ক জলবায়ুর পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এই গাছের একটি প্রজাতি রেইনবো ইউক্যালিপটাস। এই অদ্ভুত ইউক্যালিপটাস তার গায়ের জন্য বিখ্যাত। তার কাণ্ডে রং-বেরঙের বাকল দেখা যায়। ডোরাকাটা দাগে রঙিন প্রাণবন্ত এক শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ডিগলুপ্তা ইউক্যালিপটাস।
.jpg)
এই গাছ মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে দেখা যায়। গাছটি প্রায় ৬০-৭৫ মিটার উচ্চতায় আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে এবং এর কাণ্ড ২.৪ মিটারেরও বেশি ব্যাস ধারণ করে। এটি প্রতি বছর ১.৮ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এই ইউক্যালিপটাস প্রজাতি ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি এবং পূর্ব তিমুরে পাওয়া যায়। তা ছাড়া এটি হিমমুক্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে (যেমন- হাওয়াই, ফ্লোরিডা, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়) ব্যাপকভাবে রোপণ করা হয়।
এর কাঠ কাগজ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, হাওয়াই, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং আফ্রিকার কিছু অংশে হিমমুক্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয়/উপক্রান্তীয় অঞ্চলে নান্দনিক মূল্য এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয়। কাগজ ছাড়াও এটি আসবাবপত্র, প্লাইউড, মেঝে, খুঁটি, কাঠকয়লা এবং পুনর্বনায়নের জন্যও ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া বাগান, পার্ক এবং উদ্ভিদ সংগ্রহে রোপণ করার জন্য এই গাছ একটি ‘জীবন্ত শিল্পকর্ম’। এটি সিঙ্গাপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রজাতিও। তেলরঙের আস্তরণের মতো এই গাছ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শিল্পকর্ম।
রেইনবো ইউক্যালিপটাসের বাইরের বাকল বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লম্বভাবে খোসা ছাড়ানোর সময় এটি উজ্জ্বল সবুজ রঙের ভেতরের স্তরগুলো প্রকাশ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্তরগুলো নীল, বেগুনি, কমলা এবং মেরুন রঙে পরিণত হয়। একটি ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া, যা রংধনুর প্রভাব তৈরি করে। তাই একে অদ্ভুত সুন্দর দেখায়। এই গাছের বাকল বেশ পাতলা, যা এটিকে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাকের সংক্রমণ এড়াতে সাহায্য করে। বর্তমানে এই গাছ শোভাবর্ধনে বেশি ব্যবহৃত হয়।
তারেক
.jpg)
.jpg)