ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম বাজেটে শিক্ষাখাতে বাড়ছে বরাদ্দ বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম আজকের মুদ্রা বাজার: ১১ জুন ২০২৬ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান ৭ বাধা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৩ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের কানাডায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিল উত্থাপন রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত? টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে এক পরিবর্তন বাজেটের আগে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী টিভিতে আজকের খেলা মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ১০ কোটি ব্যারেল তেল পার করা: ট্রাম্প শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি শিবচরে দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা রংপুরে মিনিবাসের চাকা ফেটে নিহত ১, আহত ৩৪ সালথায় মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে এলো অত্যাধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে চাচাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা গ্রেপ্তার ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল চট্টগ্রামে পিডিবি প্রকৌশলী লাঞ্ছিত
Nagad desktop

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ১১:২৫ এএম
আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস স্বাস্থ্য খাতে দেশের প্রথম এবং একমাত্র বিশেষায়িত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর মিরপুরের দারুসসালামে নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন প্রোগ্রামে পাঠদান এবং গবেষণা কর্ম পরিচালিত হয়। লিখেছেন মাহমুদ কবীর।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ইমিউনোলজি শাখায় দক্ষ মানবসম্পদ যেমন প্রয়োজন, তেমনি অপরিহার্য ল্যাবরেটরি সায়েন্স ও রেডিওলজি এবং ইমেজিং বিষয়ে প্রশিক্ষিত লোকবল। দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চিকিৎসক যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিস্ট পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়েনি। বিষয়টি উপলব্ধি করে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি স্বাস্থ্য খাতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিইউএইচএস প্রতিষ্ঠা ছিল মূলত প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ ইব্রাহিমের সুদূরপ্রসারী কর্ম পরিকল্পনার বাস্তব ও সময়োপযোগী প্রতিফলন।

২০০২ সালে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। তবে নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা করা হয়। প্রথমে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস নামে একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হয়। যেখানে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পাবলিক হেলথ প্রোগ্রামে এমফিল, এমপিএইচ ও হেলথ টেকনোলজি বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি প্রদান করা হতো। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর মিরপুরের দারুসসালামে (টেকনিক্যাল মোড়ে) ছয় একর জায়গা নিয়ে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্য খাতে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিইউএইচএস স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ে ১০টি অনার্স ও ১৫টি মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করেছে। সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামে দুটি অনার্স প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি প্রোগ্রাম হেলথ সেক্টরে প্রয়োজনীয় লোকবলের চাহিদা বিবেচনা করে চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক মান সংরক্ষণ করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনবলের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে প্রতিটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকদের সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। মানসম্মত ল্যাবরেটরিও সমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ বিস্তৃত সবুজ ক্যাম্পাসে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। যুগোপযোগী ও কর্মক্ষেত্রে চাহিদার আলোকে কোর্স-কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাহচর্যে জ্ঞান সৃষ্টি ও চর্চার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় মানবসম্পদ বিনির্মাণে কাজ করছে।

এ ইউনিভার্সিটি স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ে বহুমাত্রিক প্রোগ্রামে উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বিশেষায়িত বিদ্যাপীঠ। স্বাস্থ্য খাতে যুগোপযোগী চাহিদার আলোকে এখানে চারটি অনুষদের অধীনে প্রোগ্রামগুলো চালু রয়েছে।  বেসিক সায়েন্সেস অনুষদে রয়েছে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড সেল বায়োলজি, মাইক্রোবায়েলজি ও ইমিউনোলজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম। চিকিৎসাসেবায় এই অনুষদের প্রতিটি প্রোগ্রাম  অত্যাবশ্যকীয়। তাই, এসব প্রোগ্রামে পড়াশোনা করে সহজে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ রয়েছে মেধাবী তরুণদের। হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং টেকনোলজি, ল্যাবরেটরি টেকনোলজি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অনার্স এবং এপ্লায়েড ল্যাবরেটরি সায়েন্সেস বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম করার সুযোগ রয়েছে।

বিইউএইচএসের পাবলিক হেলথ অনুষদে বেশ কিছু প্রোগ্রাম রয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা বিষয়ে রিপ্রোডাকটিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বিষয়ে কমিউনিটি নিউট্রিশন, রোগতত্ত্ব নির্ণয় ও নিরাময় বিষয়ে এপিডেমিয়োলজি অ্যান্ড বায়ো স্ট্যাটিসটিকস এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবন সম্পর্কে ধারণাবিষয়ক হেলথ প্রোমোশন অ্যান্ড হেলথ এডুকেশন প্রোগ্রামে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।

পরিবেশের সঙ্গে সংগতি রেখে টেকসই স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে এখানে এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনবিষয়ক অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। এ ছাড়া বিশেষভাবে, মেডিকেল প্রফেশনালদের অসংক্রামক নানাবিধ ব্যাধি হতে সুরক্ষামূলক নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস, ওষুধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কমিউনিটি মেডিসিন এবং ডেন্টিস্টদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এমপিএইচ প্রোগ্রাম রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে সহায়ক জনসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এখানকার এলায়েড হেলথ সায়েন্সেস অনুষদে তিনটি প্রোগ্রাম রয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ে যাবতীয় তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য হেলথ ইনফরমেটিকস বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে, এতে করে অনেকে স্বাস্থ্য খাতে সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। বায়োস্ট্যাটিসটিকস বিষয়ে এমএস করে স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চতর চাকরির সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দেশ-বিদেশে চাকরি ক্ষেত্রে বিপুল চাহিদার বিষয়টি উপলব্ধি করে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অনার্স প্রোগ্রাম চালু করেছে বিইউএইচএস কর্তৃপক্ষ।

 ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার সংগে সমন্বয় করে একাডেমিক ফি নির্ধারণ করেছে। উপরন্তু এখানে প্রতি সেশনে ভর্তি ক্ষেত্রে আর্থিক ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া মেধাবী এবং দরিদ্র, আদিবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, দেশব্যাপী ডায়াবেটিস ও সাধারণ চিকিৎসাসেবার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তেমনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস যুগোপযোগী শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্বে জায়গা করে নেবে, এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

সাক্ষাৎকার

'শিক্ষার্থীদের প্রতিবন্ধকতা দূর করে এগিয়ে যেতে হবে'

প্রফেসর ডা. ফরিদুল আলম 
উপাচার্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন। বর্তমানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়টি অনুষদ, বিভাগ রয়েছে?

প্রফেসর ডা. ফরিদুল আলম:  জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ ও উন্নত প্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিগত কয়েক দশকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, কিন্তু সেভাবে জনবল গড়ে ওঠেনি। বিইউএইচএস উচ্চতর স্বাস্থ্যশিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে মানবসম্পদ বিনির্মাণে অন্যতম অংশীদার হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বেড়েছে, যা খুবই আশাব্যঞ্জক। বিইউএইচএস দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও উন্নত ও সুসংহত দেখতে চায়। এ জন্য যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে দেশের তারুণ্যকে মেধাসম্পদে রূপান্তর করে  স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিইউএইচএসে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে ৪টি অনুষদের মাধ্যমে  মোট ২৫টি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম চালু রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো প্রণোদনা আছে কি না?

প্রফেসর ডা. ফরিদুল: কোভিড-১৯জনিত সার্বিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে ২০২০ সাল থেকে সব প্রোগ্রামে ভর্তি ফিতে ৫০ শতাংশ ও সব সেমিস্টারের টিউশন ফিতে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় চলছে, যা বর্তমান স্প্রিং সেশনেও চলমান রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, সে জন্য বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনারা কী ভূমিকা পালন করেন?

প্রফেসর ডা. ফরিদুল: চাকরির বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতেও বিইউএইচএস বদ্ধপরিকর। দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বিইউএইচএস। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন, আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরি করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে। বিইউএইচএসের শিক্ষার্থীরা পাস করার পরই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। যেখানে সাধারণ বিষয়ে পড়াশোনা করে  দেশ প্রতি বছর বেকারত্বের ভার বহন করছে  সেখানে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ, সেখানে বিইউএইচএস থেকে পাস করে উচ্চবেতনে সম্মানজনক চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। এমনকি ইন্টার্নশিপ  করা অবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব পান অনেক শিক্ষার্থী।

আপনাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ কেমন? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ কী করছেন?

প্রফেসর ডা. ফরিদুল: গবেষণা ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাকর্ম বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক জার্নালে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকে। নিয়মিত শিক্ষাক্রমের সঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় সচেতনভাবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশি ও বিদেশি ফান্ড মিলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাকাজে  ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কিছু বলুন?

প্রফেসর ডা. ফরিদুল: শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের লক্ষ্য হতে হবে অনেক ওপরে এবং সেই লক্ষ্যে তাদের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেক মানুষই সম্ভাব্যতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, সেটা যদি সে ব্যবহার করতে পারে তবে তার উন্নতি অবশ্যম্ভাবী।

জাহ্নবী

জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তাদের পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসারে তাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান আর বহাল নেই। তবে তারা এখনও জাকসুর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, নিয়মিত মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে হয়। এরপর তারা আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হন না। প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানাও একই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচে) এর মাস্টার্স পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “ইনস্টিটিউটের নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।”

অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।”

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ এ জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে বলেন, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো শিক্ষাজীবন আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

উল্লেখ্য যে, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কারণে জাকসুর ভিপি ও জিএস এর পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জ্যৈষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন  

আমানউল্লাহ খান/এসএন

 

প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস
নিহত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা অবস্থায়ই গলায় ফাঁস নেয় সে।

​মাহফুজের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তার এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে আনুমানিক দুইটার দিকে তাদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মুঠোফোনে কল দিয়ে মাহফুজের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান,  মাহফুজুরের প্রায় ৪-৫ বছর ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় আর মাঝে যোগাযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি বলেন, মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

​তিনি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিহতের পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শাকিবুল হাসান/এসএন

 

জেডআরএফ‘র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের
বক্তব্য রাখছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এজন্য বৃক্ষরোপণকে এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবা এবং গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেডআরএফ- এর উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তা উঠে আসে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবো। সুন্দর নিবিড় সৌন্দর্যে নির্মল হবে এদেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহর। বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে হবে। গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে স্কুল পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায় সবুজ স্বেচ্ছাসেবা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানাবো বিজ্ঞানের অভিনব ইনোভেশনের মাধ্যমে আমাদের অনগ্রসর দেশটাকে নিশ্চয়ই সাহায্য করা যায়।’

বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এলক্ষ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এসময় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবাষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় জেডআরএফ- এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম
ছবি: খবরের কাগজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগ দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

আগামী ১৭-১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য 'ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন কোস্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি' শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩২৫ জন গবেষক অংশ নেবেন এবং ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।

সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, এবং উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সোমবার (৯ জুন) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, সিম্পোজিয়ামে একটি প্লেনারি সেশন, পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশন, একটি পোস্টার সেশন এবং একটি ওয়ার্কশপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্লেনারি সেশনের প্লেনারি স্পিকার হিসেবে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের 'ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন'-এর অধ্যাপক ড. ক্যারেন উইল্টশায়ার, যিনি জার্মানির বিশ্বখ্যাত আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের সাবেক ভাইস ডিরেক্টর।

এ ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তানের গবেষকরা এই সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন।

টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রা ও বিকল্প জীবিকা, সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, মেরিকালচার, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক দূষণ বিষয়ে মোট ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে- যার মধ্যে ৮০ টি ওরাল প্রেজেন্টেশন (মৌখিক উপস্থাপনা) ও বাকি ৩৫ টি পোস্টার আকারে উপস্থাপিত হবে।

ওয়ার্কশপে শাবিপ্রবির ওশেনোগ্রাফি বিভাগ কর্তৃক ডেভেলপকৃত লো-কস্ট ওশান মনিটরিং ডিভাইসটি প্রদর্শন ও বিতরণ করা হবে।

এই সেশনে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সিম্পোজিয়ামের পার্টনার হিসেবে রয়েছেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন এবং পার্টনারশিপ ফর অবজার্ভেশন অব গ্লোবাল ওশান (পোগো) ও তাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্যাজিটা প্রজেক্ট।

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে রয়েছেন জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজি, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়ালগ (সিপিআরডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।

ইসফাক আলী/খাদিজা রুমি/

একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে একদিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দুই অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্বে দায়িত্বে থাকা দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. আল-আমিনকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের স্থলে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলো সত্য।’ 

নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসে (আইএফইএসসিইউ) শিক্ষকতা করছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও বন অভিযোজন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গবেষক। তার ৩৪ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন।

অন্যদিকে, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তিনি সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগ দিচ্ছেন। তিনি চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব।’  তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাঈম/রিফাত/