সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে 'ব্লকেড' কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর পুনরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা অবরোধ করে তারা। এই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এ সময় তাদেরকে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় উভয়পক্ষের ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের ফাঁকাগুলি ও টিয়ারশাল নিক্ষেপে শিক্ষার্থী পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন-কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী, মো. ইমরান, অর্থনীতি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্বাস, মামুন, আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্ মজুমদার, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার অন্তু, জিসান ও সৌরভ।
শিক্ষার্থীরা জানায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে মহাসড়কের দিকে রওনা দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেই লালমাই উদ্ভিদ উদ্যান এর কাছে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তারা। এ সময় প্রায় আধাঘন্টা তারা রাস্তার উপর অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা মহাসড়কের দিকে যেতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
পরবর্তীতে বিকাল সোয়া চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই মহাসড়কের দিকে রওনা হয়। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাফি বলেন, আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই। দেশের ব্যস্ততম কোন রাস্তা যদি শিক্ষার্থীরা আটকে রাখে সেটি পরিষ্কার রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা শুধুই আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।
জহির শান্ত/এমএ/


