রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কলেজ শিক্ষার্থী শিমুল শিহাবের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও অবরোধ প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষের আশ্বাসে প্রত্যাহার করেছে।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আশ্বাস দিলো তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের কাজলা, বিনোদপুর, মেহেরচন্ডীসহ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা 'আয় রাবি দেখে যা, রাজপথে তোর বাপেরা', 'আয় প্রক্টর দেখে যা, রাজপথে তোর বাপেরা', 'শিমুল ভাই মরল কেন, জবাব চাই জবাব চাই', 'প্রক্টরের চামড়া, তুলে নেব আমরা'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটকের সামনে থেকে একটা বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয়রা। মিছিলটি সাড়ে ৬টার দিকে বিনোদপুর গেইটের সামনে এসে মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ ছাড়াও রাবির বিনোদপুর গেইট বন্ধ করে দেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গেইট খোলার চেষ্টা করলে কয়েক দফায় উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে মহানগরীর মেহেরচন্ডী এলাকার সুজন খবরের কাগজকে বলেন, 'গতকাল রাতে আমাদের শিমুল ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যে করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার পর্যন্ত আমরা সড়ক অবরোধ করে রাখব।'
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিমুল শিহাব নামে রাজশাহী কলেজের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা দাবি করলেও স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছে।
এস আই সুমন/জোবাইদা/