সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যদেরও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। না মানা হলে, প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই ছাত্র সংগঠনটি।
সোমবার (৩ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ, ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের সু-চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন হুঁশিয়ারি দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক অবস্থানে গিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
সরাকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সাল থেকে সারা দেশে কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। যার ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পোষ্য কোটার বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বর্তমান সরকার আবারও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোটা পুনর্বহাল করেছে। আমরা চাই এই কোটা প্রথা বাতিল করা হোক। অন্যথায় ছাত্র অধিকার পরিষদ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।’
এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ৩টি দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। দাবিগুলো হলো- বৈষম্যমূলক কোটা অনতিবিলম্বে বাতিল; ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের সু-চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা; শহিদ পরিবারকে ১ কোটি টাকা এবং আহত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা এককালীন দিতে হবে।
এতে অন্যদের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হক, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব রাকিবুল হাসানসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আরিফ জাওয়াদ/সুমন/