নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ১২২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও এখনো চালু হয়নি খাবার পরিবেশনের এই প্রধান কেন্দ্র। ফলে ভালো খাবারের আশায় শিক্ষার্থীদের বাড়তি দাম দিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরের টং দোকানেই ভরসা করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১৩ এপ্রিল পর্যাপ্ত দেখভাল, মান উন্নয়ন ও ভর্তুকির অভাবে ক্যাফেটেরিয়াটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। তখন বলা হয়েছিল, দুই মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত করে চালু করা হবে। কিন্তু চার মাস পরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী খাবারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারা দ্রুত ক্যাফেটেরিয়া চালুর দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, তার ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ শামীম বলেন, 'ক্যাম্পাসে ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকা কতটা যৌক্তিক? অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে নোবিপ্রবির অবস্থা হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থাও প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব।'
শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মারজিয়া হক বলেন, 'ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের ফাঁকে বাইরে গিয়ে খাবার খাওয়া খুবই কষ্টকর। বাইরে খাবারের দাম বেশি, আবার মান নিয়েও সন্দেহ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বড় ক্যাম্পাস, অথচ শিক্ষার্থীদের জন্য একটিমাত্র ক্যাফেটেরিয়াও চালু নেই- এটা দুঃখজনক।'
উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, 'প্রথম টেন্ডারে একজন আবেদন করলেও তিনি যোগ্য ছিলেন না। গত মাসে নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, কয়েকজন আবেদন করেছেন। যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু হবে।'
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল জানান, 'প্রথম টেন্ডারে আমরা যোগ্য কাউকে পাইনি। দ্বিতীয় টেন্ডারে চারজন অংশ নিয়েছেন। বাছাই শেষে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে। ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু হবে বলে আশা করছি।'
কাউসার/নাঈম