দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের তফসিল আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ঘোষণা করা হবে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্বাচনি আচরণ বিধি দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সচল করার কাজও প্রায় শেষ। শিগগিরই আমরা পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা হাতে পাব। এই সপ্তাহের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘সর্বশেষ ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনি আচরণ বিধির খসড়াও প্রস্তুত। তফসিলও দ্রুত ঘোষণা করা হবে, সম্ভবত এ সপ্তাহের শেষেই।’
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রত্যাশার এই নির্বাচন। আমরা এটি আয়োজনে বদ্ধপরিকর। সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী।
অন্য সদস্যরা হলেন- ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হক, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ, অধ্যাপক ড. রুমানা আক্তার, অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক গোলাম হোসেন হাবীব।
কমিটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন (উপ-উপাচার্য, প্রশাসন)।
উল্লেখ্য ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ বার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী সময়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মুখোমুখি অবস্থান, কয়েক দফা সংঘর্ষ ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে আর নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
নাঈম আল আরাফ/সুমন/




