চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সম্প্রতি নবগঠিত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) নিজেদের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে চাকসু ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাগছাসের বক্তারা বলেন, 'ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রায়ণের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম ফলশ্রুতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চাকসু নির্বাচন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এই নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। অবশেষে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, সম্প্রতি প্রকাশিত গঠনতন্ত্র শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।'
বক্তারা আরও বলেন, 'এই গঠনতন্ত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্যমূলক ধারা যুক্ত হওয়ায় গঠনতন্ত্রটি আরও বিতর্কিত হয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমান প্রক্টরিয়াল টিম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অশোভন আচরণের কারণে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছে।
বাগছাস যে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছে:
১. বর্তমান গঠনতন্ত্রে এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের পরিপন্থি। তাই শুধুমাত্র স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হোক।
২. দপ্তর সম্পাদক ও সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে শুধু পুরুষ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা লিঙ্গ বৈষম্যমূলক। দ্রুত এই দুটি পদ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে গঠনতন্ত্রে 'মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক' পদ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে গঠনতন্ত্রে 'আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক' পদটি সংযোজন করা অপরিহার্য।
৫. বর্তমান প্রক্টোরিয়াল টিমের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
সবশেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে গঠনতন্ত্র সংশোধন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে রবিবার (২৪ আগস্ট) রাতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার ও সদস্যসচিব জাহিদ আহসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এক বছরের জন্য ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান আল মাসনূন ,আহ্বায়ক মুনতাসির মাহমুদ,মুখ্য সংগঠক সাব্বির হোসেন রিয়াদ এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান জান্নাতুল মাওয়া মিথিলা।
নাঈম/মেহেদী/




