জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী অমর্ত্য রায় আর অংশ নিতে পারছেন না। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া তার পক্ষে আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন।
এর আগে বেলা একটার দিকে হাইকোর্ট অমর্ত্যকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন এবং প্রার্থিতা বাতিলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তও স্থগিত করেন। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে যায়। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অমর্ত্যের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মানজুর আল মতিন ও তাপস বন্ধু দাস।
অমর্ত্য রায় ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থী ছিলেন। তার প্রার্থিতা বাতিল করে ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেয় নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া অমর্ত্য জাকসুর গঠনতন্ত্রের ৪ ও ৮ ধারা অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য।
এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অমর্ত্য সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তার পক্ষে রুল জারি করলেও আপিল বিভাগের আদেশে কার্যত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারালেন তিনি।
এদিকে অমর্ত্য রায় বলেন, “আমার প্রার্থিতা বাতিলের পর প্রশাসনের যুক্তি ছিল- ইতোমধ্যেই ব্যালট ছাপা হয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো- বাতিলের পর যদি দুই দিনের মধ্যে ব্যালট ছাপা সম্ভব হয়, তবে আবার নতুন করে ছাপা যাবে না কেন? আমাদের মনে হচ্ছে এটি প্রশাসনের এক ধরনের দুরভিসন্ধি। তারা আমাকে নির্বাচন করতে দিতে চায় না। এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, সেই নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।”
ব্যালট ছাপা হয়েছে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এটি অফিসিয়াল বিষয় হওয়ায় আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা ব্যালট ফাইনালাইজ করে ছাপানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে বই আকারে তৈরি হয়ে ব্যালট আমাদের কাছে পৌঁছাবে।”
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাকসু নির্বাচন।
আমানউল্লাহ/মেহেদী/