সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে গ্রেগরিয়ান ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাবের উদ্যোগে ফিয়েস্টা ইন্ট্রো-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্লাসিড পিটার রিবেরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও অভিনেত্রী নাজনীন হাসান চুমকি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিদ্যালয়ের নিজস্ব সংগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রেগরিয়ান ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাবের মডারেটর অর্পা ভেলেন্টিনা সরকার।
এ ছাড়া স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৮ অক্টোবর (বুধবার) এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে শনিবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। সলো ড্রামা, গ্রুপ ড্রামা, ড্রয়িং, স্ক্রপ্ট রাইটিং, ফটোগ্রাফি, রিলস মেকিং, পাপেট শো, রিসাইটেশন, স্ট্রোরি টেলিং, যেমন খুশি তেমন সাজো, স্টান্ড আপ, কমিটিসহ ২০টি ইভেন্টে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সভাপতির বক্তব্যে ব্রাদার প্লাসিড পিটার রিবেরু বলেন, নাটক শুধু বিনোদনের বিষয় নয় প্রত্যেকটা নাটক আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। এখানে হাসি কান্না, প্রেম-ভালোবাসা থাকে। সংগ্রাম, অভিমান, স্বপ্ন থাকে। আর এসব কিছুই নাট্যমঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে। আর একারণেই আমরা নাটক দেখে আনন্দিত হই, কান্না করি, সহানুভূতি আসে। নাট্যক্লাব হলো মানবিকতার পাঠশালা যেখানে মানুষ তাদের চিন্তা ভাবনা দিয়ে সমাজের নানা বিষয় মঞ্চে তুলে ধরে। সমাজের নানা অসঙ্গতি নাটকের মধ্য দিয়েই সংশোধিত হয়ে আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান বলেন, আমাদের দেশে এবং সমাজে এই মুহুর্তে শিল্পচর্চা করা এটা খুবই জরুরি । একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব খুব জরুরি। নম্রতা,ভদ্রতা, কমনসেন্স এসব পাঠবইতে পাওয়া যায় না। কেবলমাত্র সু-সাংস্কতির চর্চাই শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারে। এ কারণে সংস্কৃতির এই চর্চাকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অভিনেত্রী নাজনীন নাহার চুমকি বলেন, শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতিবান করে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু আমাদের সমাজের প্রবণতা হলো আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর আমাদের মতামতগুলো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা আমাদের সন্তানদের ডাক্তার বানাতে চাই, ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চাই কিন্তু মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ বানাতে চাই না। অথচ প্রকৃত মানুষের শিক্ষা আসে তার সংস্কৃতিবোধ ও রুচিবোধ থেকে। এ কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহী করতে অভিভাবক ও শিক্ষাকদের প্রতি আহ্বান জানান।
গ্রেগরিয়ান ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাবের মডারেটর অর্পা ভেলেন্টিনা সরকার বলেন, নাট্যক্লাব শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। একটি রুচিশীল সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তুলতে নাট্যক্লাব ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুজাহিদ বিল্লাহ/এসএন