ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব কিছু মানুষের কারণে কেন অপমানিত হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশি? ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়ার রিটে যা নির্দেশ দিল হাইকোর্ট মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই- লোন’ এর উদ্বোধন বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি
Nagad desktop

চাকসু নির্বাচন আজ, লড়াই হবে ত্রিমুখী

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৭ এএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২২ এএম
চাকসু নির্বাচন আজ, লড়াই হবে ত্রিমুখী
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে আজ বুধবার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আজ। এ নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল থেকে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেলের মধ্যে। 

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজনে তিন মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।

ছাত্রশিবির তাদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ নামে। প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি ও জিএস পদে সাঈদ বিন হাবিব। ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালানো এবং বিভিন্ন হলে প্রভাব ধরে রাখার কারণে এই প্যানেলকে তুলনামূলক শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে। ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি গতকাল মঙ্গলবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রত্যেক প্যানেলের প্রার্থীরা প্রচার চালিয়েছেন। আমি আশা করছি সুন্দর শান্তিপূর্ণ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে চবি প্রশাসনও সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

ছাত্রদলও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। তাদের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ও জিএস প্রার্থী শাফায়াত হোসেন। সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। দীর্ঘ তিন যুগ ধরে চাকসু কার্যকর না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। হার জিত যাই হোক, আমরা ফলাফল মেনে নেব। শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার আদায়ে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব।’ 

স্বতন্ত্র প্যানেলগুলোও রয়েছে শক্ত অবস্থানে। এর মধ্যে ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’, ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ ও ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে কয়েকটি প্যানেল আলোচনায় এসেছে। এই প্যানেলগুলোর অধিকাংশই কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রত্যক্ষ ছায়ায় নয়, বরং স্বাধীন শিক্ষার্থী উদ্যোগে গঠিত।

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, জাতিভিত্তিক সংগঠন ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের সমর্থিত পর্ষদ ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’। এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্যের ভিপি প্রার্থী জগলুল আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’ সর্বজনীন ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভিপি প্রার্থী সাঈদ মো. রেদোয়ান বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের প্যানেলের বিষয়ে বেশ ইতিবাচক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের এই মনোভাব বজায় থাকলে আমাদের প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থীই জয়ী হবে।’ 

জুলাই আন্দোলনে আহত ও প্রথম সারিতে থাকা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়। এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মাহফুজুর রহমান। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমর্থিত ‘দ্রোহ পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ঋজু লক্ষ্মী খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনে যেই প্যানেল বা প্রার্থী জয়ী হোক না কেন ভবিষ্যতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।’ 

একমাত্র নারী জিএস প্রার্থী শ্রাবণ
১৩টি প্যানেলের ভিপি ও জিএস পদে একমাত্র নারী প্রার্থী তাসনিম জাহান শ্রাবণ। তিনি বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। খবরের কাগজকে শ্রাবণ বলেন, ‘আমি যাদের কাছে গিয়েছি, সবার সাড়া পেয়েছি। আমি আশাবাদী। দেখা যাক।’

জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হলের বাইরের ভোটাররা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৫১৮ জন। শিক্ষার্থীর জন্য ১৪টি আবাসিক হলে আসন আছে ৬ হাজার ৩৬৯। তবে গাদাগাদি করে অনেকেই থাকেন বলে হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ ও মেসে। ১০ থেকে ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এই শিক্ষার্থীদের কাছে যে প্যানেল সবচেয়ে বেশি পৌঁছাতে পেরেছে তাদের জয়ের পাল্লা ভারী হবে। মূলত শহর এবং আশপাশের উপজেলার শিক্ষার্থীদের ভোটের দিকে তাকিয়ে আছেন প্রার্থীরা।

ফেসবুকে ভোটের উত্তাপ
ক্যাম্পাসে প্রচার কার্যক্রম শেষ হলেও আরেক যুদ্ধ চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই আগ্রহী প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচার শুরু করেন। যা গতকাল নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যায়ে অনেককে বুস্ট পোস্ট করেও প্রচার চালাতে দেখা গেছে। অবশ্য কেউ কেউ ভোট চেয়ে ভোটারদের মোবাইল নম্বরেও ম্যাসেজ দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে নির্বাচন প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা 
নির্বাচনে মেধাবী, আন্তরিক, বাস্তবসম্মত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ও বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আগ্রহ রয়েছে, এমন যোগ্য প্রার্থীকেই নেতৃত্বে বেছে নিতে চান তারা। 

বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিসা ইয়াসমিন কারিমা বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস রুমগুলো আকর্ষণীয় না। আমি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন চাই। আশা করি যোগ্য প্রার্থীদেরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত করবেন। যারা এসব সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আলী প্রিন্স বলেন, ‘ক্যাম্পাসে তো সমস্যার অভাব নেই। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে, এমন নেতৃত্ব আসুক। আমরা আশা করছি, যারা জয়ী হবেন তারা ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থী সবার উন্নয়ন হয়- এমন সিদ্ধান্ত নেবেন।’ 

হল সংসদে প্যানেল দিয়েছে শুধু ছাত্রশিবির
হলগুলোতে ছাত্রশিবিরের ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ ছাড়া আর কেউ প্যানেল দিতে পারেনি। ছেলেদের হলগুলোতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ছাত্রী হলগুলোতে তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রীসংস্থা প্রত্যেক হলে প্যানেল দিয়েছে। এর বাইরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ‘স্বতন্ত্র নারী কণ্ঠ’ নামে একটি প্যানেল এবং প্রীতিলতা হলে ‘স্বতন্ত্র সম্প্রীতি প্যানেল’ নামে আরেকটি স্বতন্ত্র প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দেড় হাজারের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। ইতোমধ্যে গতকাল সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও সুন্দর করতে কাজ শুরু করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু খবরের কাগজকে বলেন, ‘আশা করি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চাকসু নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে আমি কোনো ধরনের শঙ্কা করছি না।’ 

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন ৯০৮ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদের বিপরীতে ৪১৫ জন, হল সংসদে ৪৭৩ জন এবং হোস্টেল সংসদে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গণনায় ১২-১৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেগম বাজারস্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। পরে তার কবর জিয়ারত করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ আসরের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ’র অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ও তার কবর সংরক্ষণ এবং সংস্কারের দাবি তোলা হয়।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা-অনুরাগ এ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য অবদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনমত গঠন করেন। ১৯২০ সালে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাশ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল ক্যারিয়ার গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব’ (আরসিসিসি)। 
একটি দক্ষ নির্বাহী কমিটি ও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে বছরের শুরুতেই ক্লাবটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতে রয়েছে ‘ক্যারিয়ার জার্নি’, ‘ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ ও ‘ক্যারিয়ার টক’-এর মতো আয়োজন; যেখানে সিভি রাইটিং, ইন্টারভিউয়ের কৌশল, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বিসিএস ও করপোরেট চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ ও দল পরিচালনার মতো সফট স্কিল শেখার সুযোগ পান।
একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বড় অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব ক্লাবটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টায় এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে তারা। ক্লাবটির দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি উচ্চপদে কর্মরত। মূলত শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে আরসিসিসি একটি আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়
ফয়সালের তোলা ছবি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বড় চাচার দেওয়া একটি নষ্ট ক্যামেরা ঘিরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সালের মনে ছবি তোলার যে কৌতূহল জন্ম নিয়েছিল, তা আর কখনো থামেনি। রহনপুরের এই তরুণ মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন তার আলোকচিত্রের যাত্রা। বর্তমানে তিনি রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি লালন করছেন।

 

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রাচীন মসজিদ ও শতবর্ষী ইমারতের ছবি তুলতে তুলতে হেরিটেজ ফটোগ্রাফিতে ফয়সালের চোখ খুলে যায়। পাশাপাশি ন্যাচার, স্ট্রিট এবং স্পোর্টস ফটোগ্রাফিও তাকে টানে।

 

মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল


ফয়সালের জীবনের অন্যতম সেরা ছবিটির গল্প সিনেমার মতো। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক বন্ধুকে বিদায় জানানোর সময় ট্রেনের জানালায় একটি ফ্রেম দেখে তাৎক্ষণিক ক্লিক করেন তিনি। ‘১৬ হোক কিংবা ৬১’ শিরোনামের সেই ছবির ক্যাপশন ছিল–‘বয়স ১৬ হোক কিংবা ৬১, চিন্তা তোমার পিছু ছাড়বে না।’ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর ৫৪ হাজারেরও বেশি লাইক পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অর্জনের ঝুলিতে রহনপুর ফটোগ্রাফি ক্লাবের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ একাধিক অনলাইন পুরস্কার থাকলেও, বাচ্চাদের ছবি তুলে তাদের হাসিমুখ দেখানোই ফয়সালের কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

 

স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল।

ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার? 
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

 


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

 


হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা
সাখাওয়াত হোসেন

জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী