রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসস্থল মন্নুজান হল। হলটির দেয়াল ও পিলারে একাধিক ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আবাসনে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে এলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পে শেরেবাংলা হলেও ফাটল দেখা দেয়। হল দুটির ভবনগুলোর ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে প্রকৌশলী প্রতিনিধি দল আনা হয়। তবে তাদের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের পর মন্নুজান হলের দেয়াল ও পিলারের ফাটল আরও বেড়ে যায়। এর পরপরই হলের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাতে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মন্নুজান হল সংসদ পুরো ভবন পর্যবেক্ষণ করে দেয়াল ও পিলারের সব দৃশ্যমান ফাটলের ছবি সংগ্রহ করে। পরে এসব ছবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকৌশলী দল কয়েক দফা মন্নুজান হল পরিদর্শন করে। তবে সেই পরিদর্শনের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন গোপন রাখায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই হলের শিক্ষার্থীরা দ্রুত হল ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেখানে উপস্থিত হয়ে নির্মাণাধীন একটি ছেলেদের হলে শিক্ষার্থীদের অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরা নতুন হলে উঠে যান। তবে মন্নুজান হলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলে থাকতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও হল সূত্রে জানা গেছে, মন্নুজান হল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হল। ১৯৬৪ সালে এই হলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসিনের বড় বোন বেগম মন্নুজানের নামানুসারে হলটির নামকরণ করা হয়।
মন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আশীয়ারা খাতুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী দল এর আগে চারবার হল পরিদর্শন করে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে সেই প্রতিবেদন সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আরও জানান, সর্বশেষ রোববার রুয়েট থেকে প্রকৌশলী প্রতিনিধি দল হল পরিদর্শন করে গেছে। তবে মেয়েদের হল হওয়ায় হলে প্রবেশ করার আগে মেয়েদের সতর্ক করতে হয়। এ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
শেরেবাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মাদ শরিফুল ইসলাম বলেন, রুয়েটের প্রতিনিধি ১৮ ডিসেম্বর প্রকৌশলী টিম এসে শুধু একবার দেখে গেছে। পরবর্তী সময়ে তারা আবার আসবেন। এসে নমুনা সংগ্রহসহ অন্য কাজ করবেন। কবে কাজ শেষ হবে বা পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবু কালাম আজাদ বলেন, শেরেবাংলা হল ও মন্নুজান হলের অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রুয়েটের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কাজ করছে। হল দুটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা তারা নিরূপণ করবে। এই কাজের জন্য প্রায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, রাকসুর পক্ষ থেকে যেন কাজটি সময়মতো সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
মন্নুজান হল সংসদের সহসভাপতি সুমাইয়া জাহান বলেন, ‘রুয়েটের প্রতিনিধি দল এসে শুধু পরিদর্শন করে গেছে। কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে কিছুই বলেনি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী দলের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না। সেজন্য বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ হলেই থাকতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকেই তার দায় নিতে হবে।’
এ বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তবে তিনি কল ধরেননি। সেজন্য তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




