সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে দিনব্যাপী শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক বই খোলা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এই শোক বই খোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত এই শোক বইয়ে স্বাক্ষর করা যাবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শোকবইটি সর্বসাধারণের জন্য আরেকটি শোক বই উন্মুক্ত করেছে ঢাবি শাখা ছাত্রদল। শোকবইটি সর্বসাধারণের জন্য আগামী ৫ ও ৬ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
শোকবই উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রথমে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে শোকলিপি লিখে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন শোকবইতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কীভাবে অগ্রগতি সাধন করা যায়, তিনি তা বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা ও অনুভূতি শোকবইতে লিপিবদ্ধ করতে পারেন- সে লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।’
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক শোকসভা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
সূচনা বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন শোকসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
শোকসভা কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর ‘শিক্ষা ও জাতীয় ঐক্যে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের এক বিরল প্রতীক। যিনি গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়ে বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘মরহুমার জানাজায় সারাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তার ঐক্য সৃষ্টির সক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রমাণ। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে একাডেমিক গবেষণা, সাহিত্যকর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। যার ফলে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক সমাজের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহানুভূতি ও অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে অবিচল এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলস সংগ্রামী একজন রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার উন্নয়ন হয়েছে। কঠোর দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তার কারণে নিপীড়ন ও বাধার মুখেও তিনি আপস করেননি এবং দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জননী এবং দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীক। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং গণতন্ত্রের জন্য অমর অবদান রেখেছেন।’
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে ওই শোক সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট-সিনেট সদস্য, হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন


