ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন! আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে' বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১ লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সন্তানের বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম? সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না ‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ আনোয়ারা: দল বদলায়, রক্ষাকবচে অত্যাচার থামে না ৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি ৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল সবজির শত্রু কাঁঠালে পোকা
Nagad desktop

চাকসুতে বিবৃতি ও অফিস কক্ষ নিয়ে বিরোধ: জিএস-এজিএস দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১২ পিএম
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
চাকসুতে বিবৃতি ও অফিস কক্ষ নিয়ে বিরোধ: জিএস-এজিএস দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
সাইদ বিন হাবিব-আইয়ুবুর রহমান তৌফিক
 
 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)-এর মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিবৃতি প্রদান, অফিস কক্ষ বরাদ্দ, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাবকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চললেও সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্টের মাধ্যমে তা প্রকাশ্য রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের মাধ্যম চাকসুর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দ্বন্দ্বের সূচনা হয় চাকসু থেকে দেওয়া একাধিক বিবৃতি ঘিরে। এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক অভিযোগ করেন, চাকসুর পক্ষ থেকে যেসব বিবৃতি প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে তাকে অবহিত করা হচ্ছে না এবং মতামতও নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে ৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে ‘জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিয়ে অবিলম্বে গণভোটের আয়োজন করে রাষ্ট্রসংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্তির আহ্বান চাকসু’র’ শিরোনামের বিবৃতিকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ওই বিবৃতির পক্ষে চাকসুর অধিকাংশ প্রতিনিধি মত দিলেও এজিএস এতে আপত্তি জানান এবং চাকসু থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করেন।

পরবর্তীতে এজিএস নিজের প্যাড ব্যবহার করে ‘পতিত শক্তির ষড়যন্ত্রে বিপন্ন দেশ: উত্তরণের পথ জাতীয় ঐক্য’ শিরোনামে একটি ফেসবুক পোস্ট ও বিবৃতি দেন। এতে করে জিএস ও এজিএসের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। জিএসের অভিযোগ, পদাধিকার বলে চাকসুর প্যাড ব্যবহার করে বিবৃতি দেওয়ার এখতিয়ার কেবল সাধারণ সম্পাদকের; এজিএস এভাবে বিবৃতি দিতে পারেন না।

এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয় চাকসু কার্যালয়ের রুম বরাদ্দকে কেন্দ্র করে। এজিএস অভিযোগ করেন, তাকে না জানিয়ে জিএস নিজের রুম পরিবর্তন করেন এবং তার আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে জিএস বলেন, এটি পূর্বের ক্যাবিনেট অনুযায়ী কাজের প্রয়োজন বিবেচনায় করা হয়েছে এবং এজিএসকে বরং ছোট রুম থেকে বড় রুমে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষাকালে চাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমে এজিএসের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জিএস পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এজিএস নিয়মিত মিটিং ও কার্যক্রমে অংশ নেননি বলেই দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে এজিএসের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বা আনুষ্ঠানিকতার জন্য ডাকা হয়।

এবারের চাকসু নির্বাচনে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই জয়ী হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘বৈচিত্রের ঐক্য’-এর প্রার্থীরা। ব্যতিক্রম শুধু দুটি পদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে জয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। অন্যদিকে ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের প্যানেল থেকে মাহবুবা প্রীতি। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ভিন্ন রাজনৈতিক প্যানেলের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি শুরু থেকেই ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যা বর্তমান দ্বন্দ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে চাকসুর কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও হতাশা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অঙ্গন নেত্রী সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘চাকসুর মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা। কিন্তু বর্তমানে চেয়ার ও রুম নিয়ে দ্বন্দ্ব, অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন এবং পারস্পরিক বিরোধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

 তিনি বলেন, ‘২৬টি পদের মধ্যে ২৪টি একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের হাতে থাকায় চাকসুর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের দ্বন্দ্বে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে চাকসু থেকে শিক্ষার্থীরা কোনো বাস্তব সুফল পাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘চাকসুর কোনো সিদ্ধান্ত বা বিবৃতি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে নিয়মিত অবহিত করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘চাকসু থেকে যদি কোনো বিবৃতি যায়, তাহলে তা সম্পাদক, ভিপি, জিএস ও এজিএসসবার জানা থাকা উচিত। যেহেতু তার মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে, তাই তিনি স্বাধীনভাবে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। রুম বরাদ্দ ও কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিই মূলত তার আপত্তির জায়গা।’

অন্যদিকে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব বলেন, ‘এজিএসের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই।’

তিনি বলেন, ‘এজিএস চাইলে চাকসুর সব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারেন। ভর্তি পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমে তার অনুপস্থিতির কারণেই দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

বিবৃতি দেওয়ার এখতিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদাধিকার বলে চাকসুর প্যাড ব্যবহার করে বিবৃতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সাধারণ সম্পাদকের।’

মাহবুবা প্রীতির ক্ষেত্রেও একই রকম আচরণ করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে প্রীতি এ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘তিনি চাকসুর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা বিবৃতি সংক্রান্ত বিষয়ে জড়াতে চান না। তার মূল কাজ খেলাধুলা নিয়ে। বিশেষ করে মেয়েদের খেলাধুলার উন্নয়ন কীভাবে করা যায়, সেটিতেই তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন। অন্যান্য বিষয়ে তিনি খুব একটা যুক্ত হন না বলেও জানান।’

এ বিষয়ে চাকসুর সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘জিএস ও এজিএসের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।’ 

তিনি জানান, প্রয়োজন হলে চাকসু সভাপতির উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে বসিয়ে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাকসু সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে বৈঠক কিছুটা পিছিয়েছে। বৈঠকের পর এ বিষয়ে জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, আজ ১২ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দোসর হাসান মোহাম্মদ রোমানের পুনর্বাসন, চাকসু নেতাদের সাইবার বুলিং ও নিয়োগ ইস্যুতে আয়োজিত চাকসুর সংবাদ সম্মেলনে এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক উপস্থিত ছিলেন না।

আরাফ/রিফাত/

নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেগম বাজারস্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। পরে তার কবর জিয়ারত করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ আসরের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ’র অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ও তার কবর সংরক্ষণ এবং সংস্কারের দাবি তোলা হয়।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা-অনুরাগ এ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য অবদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনমত গঠন করেন। ১৯২০ সালে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাশ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল ক্যারিয়ার গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব’ (আরসিসিসি)। 
একটি দক্ষ নির্বাহী কমিটি ও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে বছরের শুরুতেই ক্লাবটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতে রয়েছে ‘ক্যারিয়ার জার্নি’, ‘ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ ও ‘ক্যারিয়ার টক’-এর মতো আয়োজন; যেখানে সিভি রাইটিং, ইন্টারভিউয়ের কৌশল, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বিসিএস ও করপোরেট চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ ও দল পরিচালনার মতো সফট স্কিল শেখার সুযোগ পান।
একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বড় অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব ক্লাবটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টায় এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে তারা। ক্লাবটির দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি উচ্চপদে কর্মরত। মূলত শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে আরসিসিসি একটি আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়
ফয়সালের তোলা ছবি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বড় চাচার দেওয়া একটি নষ্ট ক্যামেরা ঘিরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সালের মনে ছবি তোলার যে কৌতূহল জন্ম নিয়েছিল, তা আর কখনো থামেনি। রহনপুরের এই তরুণ মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন তার আলোকচিত্রের যাত্রা। বর্তমানে তিনি রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি লালন করছেন।

 

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রাচীন মসজিদ ও শতবর্ষী ইমারতের ছবি তুলতে তুলতে হেরিটেজ ফটোগ্রাফিতে ফয়সালের চোখ খুলে যায়। পাশাপাশি ন্যাচার, স্ট্রিট এবং স্পোর্টস ফটোগ্রাফিও তাকে টানে।

 

মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল


ফয়সালের জীবনের অন্যতম সেরা ছবিটির গল্প সিনেমার মতো। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক বন্ধুকে বিদায় জানানোর সময় ট্রেনের জানালায় একটি ফ্রেম দেখে তাৎক্ষণিক ক্লিক করেন তিনি। ‘১৬ হোক কিংবা ৬১’ শিরোনামের সেই ছবির ক্যাপশন ছিল–‘বয়স ১৬ হোক কিংবা ৬১, চিন্তা তোমার পিছু ছাড়বে না।’ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর ৫৪ হাজারেরও বেশি লাইক পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অর্জনের ঝুলিতে রহনপুর ফটোগ্রাফি ক্লাবের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ একাধিক অনলাইন পুরস্কার থাকলেও, বাচ্চাদের ছবি তুলে তাদের হাসিমুখ দেখানোই ফয়সালের কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

 

স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল।

ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার? 
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

 


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

 


হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা
সাখাওয়াত হোসেন

জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী