ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

ডাসারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের প্রতিবাদে অফিস ঘেরাও

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ১০:৩০ এএম
বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের প্রতিবাদে অফিস ঘেরাও
খবরের কাগজ

মাদারীপুরের ডাসারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে অফিস ঘেরাও করেছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত ভূতুড়ে বিলের প্রতিবাদে উপজেলার ডাসার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে গ্রাহকরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অতিরিক্ত বিলের কারণে বিপাকে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকেরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি বিলে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গ্রাহকেরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত মাসের বিদ্যুৎ বিল ঠিক থাকলেও চলতি মে মাসের বিল তৈরিতে গাফিলতি করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয় সাধারণ গ্রাহকেরা। এ সময় মাদারীপুরের ডাসারের সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিলে ফেটে পড়ে সাধারণ গ্রাহকেরা। এ সময় তাদের অস্বাভাবিক বিল থেকে বাঁচতে চান গ্রাহকরা। তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যায় অফিসের লাইন ইঞ্জিনিয়ার সুফল কুমার পাল। পরে পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপজেলার ডাসার এলাকার মোতালেব কাজী নামের ভ্যানচালক বলেন, ‘আমার বাড়ির মিটারে গত এপ্রিল মাসের বিল এসেছিল ১ হাজার ৩১৪ টাকা। এখন মে মাসের বিল এসেছে ৪ হাজার ২৯৩ টাকা। মোরা গরিব মানুষ ভ্যান চালাইয়া দিন আনি দিন খাই। বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি এই ২ হাজার ৯৭৯ টাহা মুই কইত্তোন দিমু।’

উপজেলা ধামুসা গ্রামের রাজ্জাক ঢালী নামের আরেকজন গ্রাহক বলেন, ‘আমার এপ্রিল মাসের বিল এসেছিল ৫৪৫ টাকা। আর বর্তমান মে মাসের বিল এসেছে ২ হাজার ২৭১ টাকা। তারা মন মতো বিল তৈরি করেছে।’

এ বিষয়ে ডাসার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কথা বলতে চাননি।

তবে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ জোনাব আলী জানান, ডাসারের সংশ্লিষ্ট অফিস বিল তৈরি করে। তারাই বিল আদায় করে। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক বিলের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে অনিয়ম হলে তদন্ত করা হবে।

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটির অভিযান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:২০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:২০ পিএম
বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটির অভিযান
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলরত যানবাহনের অতিরিক্ত গতি প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের আদালত-১০ এর ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোতাছেম বিল্লাহ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনে অভিযানে ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে যেসব যানবাহন চলাচল করছিল সেগুলোকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলচালকদের ১০ টি মামলা দিয়ে মোট ১৬ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ বিআরটিএর মোটরযান শাখার পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত, বেঞ্চ সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাসাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

পাথরে ঢাকা ছিল ২৭৫ বস্তা চোরাই চিনি, গ্রেপ্তার বাহক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
পাথরে ঢাকা ছিল ২৭৫ বস্তা চোরাই চিনি, গ্রেপ্তার বাহক
পাথরচাপা দিয়ে এভাবেই ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল চোরাই চিনি। ইনসেটে গ্রেপ্তার চিনির বাহক রুবেল। ছবি: খবরের কাগজ

চোরাই চিনির ২৭৫টি বস্তা পাথর দিয়ে ঢাকা। দেখলে মনেই হবে না পাথরচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বস্তাগুলো। সিলেটের শাহপারান থানা পুলিশের একটি দল চলতিপথে একটি ট্রাকটিকে ধাওয়া করে অভিনব এ পদ্ধতির চোরাই চিনির পাচার ঠেকিয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে একটি ট্রাক দ্রুত যাচ্ছিল। শাহপরান থানা পুলিশের টহল দল ট্রাকটি থামানোর নির্দেশ দিলেও চালক ট্রাকটি থামায়নি। শেষে ধাওয়া করে ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ট্রাক তল্লাশি করে পাথরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় ২৭৫ বস্তা চিনি পাওয়া যায়। চিনিগুলো ভারতীয় এবং চোরাই পথে আনা।

এ সময় ট্রাকের সঙ্গে থাকা মো. রুবেল মিয়াকে (৩৫) আটক করা হয়। রুবেলের বাড়ি হবিগঞ্জের গভরাঙ্গাচর গ্রামে।

এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রুবেলকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
এর আগে গত ১৪ জুন শাহপরান থানা এলাকায় একই কায়দায় পাচারের সময় ২০০ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে ট্রাকের দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে হয়। জব্দ চিনির আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে পাথরচাপা দিয়ে চিনি পাচারের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটল।

বুধবারের ঘটনায় শাহপারান থানা সূত্র জানায়, ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৮৮৫০) ভেতরে কাটা পাথরের তিন ইঞ্চি স্তর দিয়ে নিচে ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো ভারতীয় ২৭৫ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। চিনির বস্তায় ইংরেজিতে লেখা MANUFACTURED AT ATHANI SUGAR LIMITED, Maharashtra, India। প্রতি বস্তায় ৪৯ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ৪৭৫ কেজি চিনি রয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনির মূল্য ১২০ টাকা করে মোট দাম ১৬ লাখ ১৭ হাজার  টাকা।

এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশানার (এডিসি, মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, চোরাই চিনির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান চলমান থাকায় এ রকম নানা কৌশল অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। এ ঘটনায় আটক মো. রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট ব্যুরো/অমিয়/

তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : খবরের কাগজ

তিস্তা নদীর পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ায় তিস্তার নদীর ভাঙন বেড়েছে। ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ।

বুধবার (১৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে সকাল থেকে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। এতে তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে অবস্থিত কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় ডালিয়া ব্যারেজের সবকটি কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে।

চর এলাকার মানুষের তথ্য মতে, পানি বেড়ে গদাই, ঢুষমারা, তালুক শাহবাজ,পূর্ব নিজপাড়ার অংশ, গোপীডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, চর প্রাননাথ, শনশনিয়া, চর হয়বত খাঁ, চর গনাই, আজমখাঁর চরের নিম্ন এলাকায় পানি উঠতে শুরু করেছে।

এ ছাড়াও আমন ধানের বীজতলা, উঠতি বাদামখেত পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে।

পানি বাড়তে থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে  তিস্তার পানি বেড়েছে। তাদের এলাকার ২০০ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমন ধানের বীজতলা, বাদামখেত ও বিভিন্ন সবজিখেত  পানিতে তলিয়ে গেছে।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনছার আলী বলেন, তার এলাকায় পাঁচটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ওঠতে শুরু করেছে। নদী ভাঙনও বেড়েছে। 

কাউনিয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব বলেন তিস্তার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকছে। বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা প্রশাসন ও আমরা ত্রাণ বিভাগ বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কাউনিয়ার তিস্তা রেল সেতু পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢল না এলে তিস্তার পানি কমতে শুরু করবে। 

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হক বলেন, বন্যায় যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

সাইফুর রহমান রানা/অমিয়/

নেত্রকোণার ৩ উপজেলায় বন্যা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
নেত্রকোণার ৩ উপজেলায় বন্যা
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় পাহাড়ি ঢল আর একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী উব্দাখালি নদী পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অন্তত ৬৫টি গ্ৰাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নেত্রকোনা সদর ও পার্শ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও। 

এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। কাঁচা সড়কে কাঁদা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। পানি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠে। 

বাউসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামছুল হক জানান, বারহাট্টা উপজেলার কংস নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি গ্ৰামের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বাউসী ও রায়পুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্ৰামে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে রূপগঞ্জ বাজারের তাতিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রও তলিয়ে যাবে। তবে পার্শ্ববর্তী বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কলমাকান্দার ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান জানান, পাহাড়ি ঢল আর একটানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার অন্তত ৭/৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বরখাস্ত, হোগলা ও সদর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে বেশি। তবে প্রস্তুত আছে আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ২০/২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খেয়াল রাখা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান জানান, উব্দাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে হাওর অঞ্চলে খলিয়াজুরীর ধনু নদীর পানিও বাড়ছে। বাড়ছে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর পানি।

জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ পারভেজ জানান, জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা, হাওর অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, ঔষধপত্র দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য সকলের সহানুভূতি ও তথ্য নিশ্চিতকরণে এগিয়ে আসা উচিত।

বিজয় চন্দ্র দাস/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:২৭ এএম
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের বাড়িগুলো থেকে পানি নামতে থাকলেও বাড়ছে হাওরের পানি। এ কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে হাওর এলাকায়। দুর্ভোগ-দুর্দশায় ও হতাশায় দিন কাটছে সুনামগঞ্জবাসীর।

গত তিন দিনে জেলার অন্তত ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর পাড় থেকে পানি কিছু কমলেও এখন শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, হাজিপাড়া, নতুনপাড়া, বাঁধনপাড়া, হাছন নগর, মল্লিকপুর, নবীনগর ও কালীপুর এলাকায় কোথাও কোমর থেকে হাটুসমান পানি রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌরশহরের নতুনপাড়া এলাকার দোলন দাস (৪০) খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত তিন ধরে নতুনপাড়ায় শত শত মানুষ পানিবন্দি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কাজ না করতে পরায় অনেকের ঘরে খাবারও নেই। কেউ এসে দেখেও না মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে।’

একই এলাকার মিঠুন (৩৭) জানান, কোথাও হাটু, কোথাও কোমরসমান পানি। আতঙ্ক কাটছেই না। বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পানি আরও বাড়বে। পানিতে থেকে মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছে। 

সুনামগঞ্জ শহরতলী ইসলামপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন (৩৫) জানান, ‘ঈদের আগে থেকে এলাকায় পানি ঢুকেছে। চারদিন ধরে বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছি, কেউ দেখে না। ঘর থেকে বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। ঘরে খাবার নাই, ঔষধ নাই। আমাদের অসহায়ত্ব দেখার কেউ নাই। আমাদের ত্রাণ লাগবে, খাবার লাগবে। যদি পারেন খাবার দেন। আমাদের সন্তানদের খাবার প্রয়োজন।’

এদিকে এখনও সুনামগঞ্জের সঙ্গে ছাতক, তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি ৫৪১ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসি মানুষ। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়নগুলোতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, ২৪ ঘণ্টায় পানি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দেওয়ান গিয়াস/পপি/অমিয়/