ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

পদ্মা-মেঘনায় যত্রতত্র নিষিদ্ধ জাল, ধ্বংস হচ্ছে রেণুপোনা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
পদ্মা-মেঘনায় যত্রতত্র নিষিদ্ধ জাল, ধ্বংস হচ্ছে রেণুপোনা
ছবি : খবরের কাগজ

চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলায় পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ছোট ফাঁদের নিষিদ্ধ জাল টেনে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের রেণুপোনা।

উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার পদ্মা ও মেঘনা নদীর সীমানা। এসব এলাকায় প্রায় ৪৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে। মৎস্য বিভাগ থেকে জেলেদের বিভিন্নভাবে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না। যে কারণে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের রেণুপোনা।

সম্প্রতি সময়ে নদী উপকূলীয় এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে ছোট মাছ (রেণুপোনা) ধরার চিত্র। এসব রেণুপোনা ধরে বর্তমানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজার ও পাড়া মহল্লায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তর, সদরের বিভিন্ন এলাকাসহ বিশেষ করে হাইমচর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চরঘেরা জাল, চায়না দোয়াইর চাঁই, পাঙ্গাশ ধরার বড় সাইজের চাঁই, চিংড়ি পোনা নিধনকারী পুশ নেট, বাঁধা জাল ও গচি জাল ব্যবহার করে ছোট মাছ ও রেণুপোনা ধরার কাজে ব্যবহার করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড চাঁদপুর যৌথ অভিযান করে মুন্সীগঞ্জ থেকে হিজলা পাচারের সময় ৬৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে। এ ছাড়াও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের দুই মাস ও মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান ছাড়া নিষিদ্ধ জাল বছরজুড়ে জব্দ হচ্ছে।

নিষিদ্ধ জাল মাছের পোনা নিধন হয় এমন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি অভিযান পলিচালনা করে মতলব উত্তর ও হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগ। এর মধ্যে হাইমচর উপজেলা মৎস্য বিভাগ গত ১৭ মে ছোট প্রজাতির মাছ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ ৪০ হাজার মিটার চরঘেরা জাল, ২০টি চায়না দোয়াইর চাঁই ও ৫টি চিংড়ি পোনা নিধনকারী পুশ জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে।

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল থেকে অভিযান চালিয়ে ১৫টি পাঙ্গাশ মাছের পোনা ধরার চাঁই, ১০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ৩০টি চায়না দুয়াইর রিং চাই জব্দ করা হয় এবং জনসম্মুখে পোড়ানো হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস এই অভিযান করেন। তিনি বলেন, পোনা মাছ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে হাইমচর মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করছে অসাধু জেলেরা। প্রতিদিন নিধন করা হয় কয়েক কোটি মাছের পোনা। বাঁধা জাল, গচি জাল ও চায়না জালসহ নিষিদ্ধ জালগুলো নদীতে পেলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করে চরভৈরবী মাছের আড়তে  প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়।  

চরভৈরবী আড়তদার নজরুল ফকির বলেন, আমার আড়তে গচি জালের মাছ বিক্রি হয়। কিন্তু বাঁধা জাল কিংবা চায়না জালের মাছ বিক্রি হয় না। অন্যরা বিক্রি করে কিনা জানি না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউসুফ জুবায়ের শিমুল বলেন, আমাদের চরভৈরবী আড়তে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে নিধনকৃত মাছের পোনা বেচার বিষয় জানতে পেরেছি। আমি জেলেদের মাছের পোনা ধরা ও বিক্রি না করার জন্য নিষেধ করেছি। তারা আমার কথা না মানলে তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

হাইমচর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুব রশীদ বলেন, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছের পোনা ধরার সংবাদ পেয়ে নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গচি জাল উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার বছরজুড়েই নিষিদ্ধ। মৎস্য বিভাগ কখনই এসব জালের অনুমোদন দেয় না। জেলেরা যাতে করে সুতার জাল ব্যবহার করে সে জন্য উৎসাহ দিতে বিনামূল্যে জালও দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও একশ্রেণির জেলে নদীতে নেমে ছোট পোনা মাছ ধরছে। নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আমাদের জেলাজুড়ে অভিযান অব্যাহত আছে।

শরীফুল ইসলাম/জোবাইদা/

স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা': রাজশাহীর ডিসি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা': রাজশাহীর ডিসি
ছবি : খবরের কাগজ

রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ বলেছেন, 'স্মার্ট বাংলাদেশ রোডম্যাপের চারটি পিলার- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট গর্ভন্যান্স। এই চারটি পিলারের মধ্যে স্মার্ট নাগরিক এমন একটি পিলার যা মজবুত না হলে অন্য তিনটি পিলার হবে ভঙ্গুর, প্রকারান্তরে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে দুরূহ ও অসম্ভব এক ব্যাপার। এজন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রথম এবং প্রধান শর্ত স্মার্ট নাগরিক তৈরি করা। কারণ স্মার্ট নাগরিকের মাধ্যমেই তৈরি হবে স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি, যা একইসাথে নিশ্চিত করবে জবাবদিহিমূলক সরকার অর্থাৎ 'স্মার্ট গর্ভন্যান্স'। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমি বিষয়ক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলবে 'ভূমির পাঠশালা'।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক সভা, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং স্মার্ট নাগরিক তৈরির প্রয়াসে নির্মিত 'ভূমির পাঠশালা' র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পবা উপজেলা ভূমি অফিস চত্ত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই ভূমি নিয়ে মানুষের ভোগান্তি। বাংলাদেশে অধিকাংশ পরিবারেই ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অথচ এই ভূমি নিয়েই মানুষের জ্ঞানচর্চা সবচেয়ে কম। তাই 'ভূমির পাঠশালা' ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেও 'ভূমির পাঠশালা' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।'

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পবা উপজেলা ভূমি অফিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, প্রথম আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে 'ভূমির পাঠশালা'র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার। তিনি জানান, 'ভূমির পাঠশালা' ভূমি সেবা সপ্তাহের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত সামগ্রিক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার জানান, পবার উদ্ভাবনী উদ্যোগ 'মাটির মায়ার'র হাত ধরে সমগ্র বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়ে ছিল। 'ভূমির পাঠশালা' সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, আকাশচুম্বী প্রত্যাশার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভবপর হবে বলেও জানান তিনি।

পরে 'ভূমির পাঠশালা'য় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এনায়েত করিম/এমএ/

চাঁদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩৭৮, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
চাঁদপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় আসামি ৩৭৮, গ্রেপ্তার ৫
ছবি : খবরের কাগজ

চাঁদপুর শহরের পুরাণ বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আল-আমিন নামে অটোরিকশা চালক নিহত হয়। আহত হয় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন। নিহত ও আহতের ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৭৮ জনকে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৫ জন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মুহসীন আলম।

গ্রেপ্তার ৫ আসামিরা হলেন- শহরের পুরান বাজারের সঞ্জয় বর্মণ (১৯), জাকির হোসেন (২৮), বাবুল বেপারী (৪৪), ইয়াছিন মহব্বত (২৫) ও রিপন ইসলাম (২৮)।

থানা পুলিশ জানায়, অটোচালক আল-আমিন হত্যার ঘটনায় তার পিতা মজিদ খান ডেঙ্গু ১২ জুন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি নিতাইগঞ্জ রোডের বাসিন্দা সজিব মাঝি, দুই নম্বর আসামি তার পিতা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি ও তিন নম্বর আসামি তার বড় ভাই রাকিব মাঝি। এই মামলায় ২৮ জন নামসহ এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ জনকে।

এছাড়া একইদিন সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর আক্রমণের ঘটনায় ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় অপর মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস সরকার।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মুহসীন আলম বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন পুরাণ বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজিব শর্মা।
 
গত ১১ জুন মঙ্গলবার দিনগত রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহরের পুরাণ বাজার পলাশের মোড় মেরকাটিজ রোড ও নিতাইগঞ্জ রোডের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আল-আমিন খান (৩০) নামে অটোরিকশা চারক নিহত হয়। আহত হয় কমপেক্ষ ২০ জন। এই ঘটনায় পুলিশ ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শরীফুল ইসলাম/এমএ/ 
 

সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৫৫ পিএম
সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী এলাকায় সুনামগঞ্জগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের লামাকাজী এলাকার সিরাজপুর সাহেবনগর পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাইকাপন এলাকার কৌসর আলমের ছেলে শাহিন মিয়া (২৮) এবং বদরুল আলমের ছেলে শিব্বির আহমেদ (৪২)। তারা লেগুনার যাত্রী।

এ ঘটনায় আহত লেগুনাচালক নাইম (১৮) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, বাসের সঙ্গে সুনামগঞ্জ থেকে আসা লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। আহত আরেকজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রউফ বলেন, দুর্ঘটনার পর রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে তা স্বাভাবিক করে। লেগুনা ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

শাকিলা ববি/অমিয়/

সিলেটে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৯ পিএম
সিলেটে বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সিলেটে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোররাত থেকে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে প্রকট বজ্রের শব্দে ঘুম ভাঙে নগরীর বাসিন্দাদের। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতার। পাশাপাশি ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে টানা বৃষ্টির কারণে বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট ছাড়া অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আজ থেকে আগামী টানা তিন দিন এ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি জেলাজুড়ে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার। আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০৫ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮১ মিলিমিটার। এর মধ্যেই বজ্রপাত নিয়ে সর্তক করেছে আবহাওয়া অফিস। 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘সিলেটে আজ সকাল থেকে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে তিন দিন। সিলেটের আকাশে বর্তমানে বজ্রমেঘের অবস্থান আছে। এটা কেটে যেতে সময় লাগবে। তাই সবাইকে বজ্রপাত থেকে সাবধান থাকতে হবে।’

এদিকে, সিলেটের এই দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

এক খুদে বার্তায় তিনি বলেন, ‘গতকাল বুধবার থেকে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চেরাপুঞ্জি ও সিলেট মিলিয়ে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৩৫ মিমি। আরও বেশিও হতে পারে এবং আরও বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।’ 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্ষাকালে সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১.৬০ সেন্টিমিটার। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১২.৩৭ সেন্টিমিটার। সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর ডেঞ্জার লেভেল ১০.৮০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.৫৮ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১০.১১ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর আমলশিদ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৩.৫৭ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩.৪৪ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ৯.৪৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৯১ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৯৩ সেন্টিমিটার। সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল ১২.৩৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০.২০ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১১.৫১ সেন্টিমিটার।

সারিগোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১০.৮২ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.১৪ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ৯.৫২ সেন্টিমিটার। ডাউকি নদীর জাফলং পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল ১৩.০০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.২৯ সেন্টিমিটার। আজ দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১০.১৭ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হলে বন্যার আশঙ্কা তো অবশ্যই থাকে। তা ছাড়া আমাদের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পায় মূলত উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই উজানের ঢলে আমাদের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি সিলেটেও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তার ওপর গত মাসের বন্যার কারণে ইতোমধ্যে সিলেটের নদ-নদীতে পানি বেশি আছে। এখন যেহেতু এখানেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে, আবার ভারতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাই নদ-নদীর পানি দ্রুতই বৃদ্ধি পাবে। এজন্য আমাদের বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

শাকিলা ববি/সালমান/

 

মাথায় ইট পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
মাথায় ইট পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীর তানোরে একটি ভবনের কাজ করার সময় মাথায় ইট পড়ে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার পৌরশহরের হঠাৎপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শমসের আলী (৪৫) উপজেলার বনকেশর এলাকার মো. সানাউল্লাহর ছেলে। তবে আহতের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম।

তিনি বলেন, ‘তানোর পৌরশহরের হঠাৎপাড়া এলাকায় একটি ভবনে কাজ করার সময়ে অসাবধানতাবশত মাথায় ইট পড়ে গুরুতর আহত হন শমসসহ দুইজন। পরে শমসেরকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত অপরজনের নাম ও পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এনায়েত করিম/সালমান/