বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিতে গত ৪ আগস্ট উলিপুর থেকে কুড়িগ্রাম শহরে এসেছিলেন আশিক বাবু। অবস্থান নেন শহরের শাপলা চত্বর এলাকায়। শেখ হাসিনার সরকার পতনের একদফা দাবিতে সারা দেশের মতো উত্তরের এই জনপদও তখন উত্তাল। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু সংঘর্ষ হয়।
এ সময় একটি ইট এসে লাগে ২৪ বছর বয়সী আশিক বাবুর মাথায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বাড়ি চলে যান। সেখান থেকে নেওয়া হয় রংপুর মেডিকেলে। ওখান থেকে রেফার করা হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। টানা ২৭ দিন চিকিৎসা শেষে রবিবার আশিক সেখানে মারা যান। গতকাল সোমবার নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
আশিক বাবু উলিপুরের পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়ি উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাতভিটা গ্রামে। আশিকের মৃত্যুর খবরে তার কলেজে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে স্মৃতি ফলক বানানোর আশ্বাস। তবে বড় ছেলের মৃত্যুতে বাবা চাঁদ মিয়া এখন পাগলপ্রায়। জানতে চেয়েছেন ছেলে হত্যার বিচার চাবেন কোথায়।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার আশিকের মৃত্যুর খবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা হাসপাতালে ছুটে যান। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আশিকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় কুড়িগ্রামে। জেলা শহরে লাশবাহী গাড়ি পৌঁছলে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় স্থানীয় শহিদ মিনারে জেলা সমন্বয়কদের উদ্যোগে দ্বিতীয় দফা জানাজার আয়োজন করা হয়। পরে আশিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজ ও নিজবাড়ির পাশের স্কুল মাঠে তৃতীয়বার জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে আশিকের অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বারবার খেই হারিয়ে ফেলা বাবা চাঁদ মিয়া বলেন, ‘আমার আশা-ভরসার সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি ছেলে হত্যার বিচার কোথায় চাব?’
পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় কুমার সরকার বলেন, কুড়িগ্রামের পর পাঁচপীর কলেজ মাঠে জানাজা পড়ানো হয়। আশিকের মৃত্যুতে কলেজ থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আশিকের জন্য একটি স্মৃতি ফলক তৈরি করা হবে।