ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের রঙিন জীবন সবাই দেখে কিন্তু কষ্ট কেউ দেখে না। তারা প্রান্তিক অঞ্চলে বাস করে। গর্ভকাল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কাজেই তাদের বিভিন্ন সম্যসার সম্মুখীন হতে হয়। তারা জাতিগত, লিঙ্গগত, ভাষাগত, ধর্মীয়গত এবং শ্রেণিগত কারণে প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফলে দিন দিন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও বাড়ছে। সহিংসতার মধ্যে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অপহরণ, নারী পাচার দিন দিন বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটে বিভাগীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ও শিশুর মানবাধিকার শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
খাদিমনগর এফআইভিডিবির প্রশিক্ষণ হলে সভাটির আয়োজন করে পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ) ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘সারা দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী নির্যাতন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কাপেং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ২০০৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৭২৬ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, পাচারসহ নানা সহিংসতামূলক কার্যক্রম।’
তারা আরও বলেন, ‘৫৪ এর অধিক জাতির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আছে বাংলাদেশে। দেশের মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। সাংবিধানিক স্বীকৃতি নাই তাদের। সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা এখন সময়ের দাবি।’
পাসকপের প্রকল্প সমন্বয়কারী লাবনী স্বর্তীর পরিচালনায় সভার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাসকপের নির্বাহী প্রধান গৌরাঙ্গ পাত্র। আদিবাসী নারী ও শিশুর মানবাধিকার নিয়ে কিনোট উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা।
সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন কারিতাস সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক বনিফাস খংলা, লেখক ও কবি এ কে শেরাম, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট শিরীন আক্তার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারী নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং।
শাকিলা ববি/সালমান/