খুলনায় নিষিদ্ধ পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার কমছে না। নিত্যদিনের বাজার-সদাই মানেই যেন ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শেখপাড়া কাঁচাবাজার, নিউ মার্কেট, গল্লামারী কাঁচাবাজার, ছোট বড় বিপণিবিতানে সবার হাতে হাতেই পলিথিন। মুদি দোকান, মাছ বাজার, শপিংমল সবখানেই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এসব পলিথিন পচনশীল না হওয়ায় পরিবেশ, জমি ও কৃষির ক্ষতি করছে।
পাশাপাশি বর্জ্য হিসেবে নালা-নর্দমা, খাল-বিলে জমা হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত করছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বাজারে কাঁচা তরকারি, মাছ ও মালামাল বহনে পলিথিনের বিকল্প সহজলভ্য কিছু না থাকায় এর উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পলিথিনের শপিং ব্যাগ বন্ধের অভিযানেও তেমন সাফল্য মিলছে না।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে গত কয়েক দিনে জেলার সুপারশপগুলোতে পলিথিনের শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে জনসচেনতামূলক অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে দেখা যায়, আইন উপেক্ষা করে রাখঢাক না করেই ক্রেতা-বিক্রেতারা পলিথিন ব্যবহার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মনিটরিংয়ের অভাব ও পলিথিনের বিকল্প না থাকায় দিনকে দিন এর উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বেড়েছে।
নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা চাকরিজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হোক, সেটা আমরাও চাই। কিন্তু এর বিকল্পও দিতে হবে। আমি ভেজা তরিতরকারি বা মাছ কিনলে তো কাগজের ব্যাগে নিতে পারব না। আবার চটের ব্যাগ বা অন্য কোনো ব্যাগের দাম বেশি হলেও তা অনেকে নিতে চাইবে না। এ কারণে বিকল্প সহজলভ্য ও দামে কম কোনো ব্যাগ দিলেই কেবল ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমানো যাবে।’
অন্যদিকে পলিথিন বন্ধে মানসিকতা পরিবর্তন, আইন প্রয়োগ ও উৎপাদন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতারা। নাগরিক সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জানান, অনেকে ৮০০ থেকে হাজার টাকার বাজার করেন। কিন্তু ৫-১০ টাকার একটা কাপড় বা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ কিনতে আগ্রহী হন না। বরং বিক্রেতার কাছ থেকে বিনামূল্যে পলিথিনে করে বাজার তরকারি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এখন কেউ আর বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বাজার করতে যান না। এ ক্ষেত্রে সবার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, ‘জেলার কয়েকটি জায়গায় এখনো ক্ষতিকর পলিথিন উৎপাদন হয়। কারখানা বন্ধ না করলে বাজারে অভিযান চালিয়ে লাভ হবে না।’
এদিকে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মনিটরিং ও সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলছেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম। তিনি জানান, ১ অক্টোবর থেকে খুলনার বিভিন্ন সুপারশপগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পলিথিনের ক্ষতির দিক উল্লেখ করে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করতে এক মাস ধরে এই অভিযান চলবে। এরপর ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে অভিযান চালানো হবে। পলিথিনের শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে এই অভিযান চলছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর আলিফ রেজা জানান, খুলনায় কোথাও নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন হলে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন সুপারশপে এরই মধ্যে পলিথিনের শপিং ব্যাগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিকর পলিথিন বন্ধের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তারা বলছেন, পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান চালানো উচিত।