বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। অক্টোবরেই ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগেই শিশু-কিশোর।
ডেঙ্গু আক্রান্ত মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। কিন্তু ভর্তি হওয়ার সময় যে অবস্থা হয়েছিল, মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না।’ রোগীর স্বজন শারমিন বেগম বলেন, ‘এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় তেমন তৎপরতা নেই, সরকারিভাবেও দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। বেশির ভাগ জায়গায় দিনের পর দিন পানি জমছে। কেউ স্প্রে বা কোনো ওষুধও ছিটায় না। শঙ্কা করছি, এবার এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা হবে।’
অপর স্বজন রাবেয়া বেগম বলেন, ‘রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন আমার রোগী আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছে। এখানের চিকিৎসাসেবা খুব ভালো। ডাক্তারও নিয়মিত আসছেন, নার্সরাও এসে খোঁজখবর নিয়ে যাচ্ছেন।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের সংকট নেই। তাই কারও ৩ থেকে ৪ দিন ধরে জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। তাতে ডেঙ্গু শনাক্ত যেমন সহায়ক হবে, তেমনি রোগীও সঠিক চিকিৎসা পাবেন। মোংলাতে গতবার প্রথমবারের মতো সেল কাউন্টারের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষার কাজ শুরু করা হলেও এবার সেটা হচ্ছে না। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়লে সেল কাউন্টারের মাধ্যমে আবারও প্লাটিলেট কাউন্ট শুরু করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন বলেন, ‘আমাদের পৌর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হারটা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। গত জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে চলতি অক্টোবরেই ৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর আগের মাসগুলোতে শনাক্তের হার কম হলেও চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।’