ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
Nagad desktop

৭৫ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ইউএনওর খোলাচিঠি

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৪৭ পিএম
৭৫ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ইউএনওর খোলাচিঠি
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার। ছবি: খবরের কাগজ

অভিভাবকদের কাছে সন্তানকে কেবল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে বিবেচনা না করার অনুরোধ জানিয়ে খোলা চিঠি দিচ্ছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) থেকে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদরাসার ৭৫ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবককে খোলাচিঠি দেওয়া শুরু করেন তিনি।

খোলাচিঠিতে ইউএনও উল্লেখ করেন, 'ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে আপনার সন্তানের বার্ষিক পরীক্ষা। সব বাবা-মায়েরই স্বপ্ন থাকে সন্তান খুব ভালো রেজাল্ট করবে, ক্লাসের টপার হবে। আপনার সন্তান যদি পরীক্ষায় খুব ভালো নম্বর পায়, তবে সেটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আনন্দের। কিন্তু যদি না পায় তাহলে অনুরোধ থাকবে তাদের ওপর নিজের বিশ্বাসটুকু হারাবেন না। সন্তানকে আশ্বস্ত করুন তার নিজের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে বলুন। সে চাইলেই সামনে আরও ভালো করতে পারবে একটুকু আত্মবিশ্বাস তাকে দিন। তাকে বুঝিয়ে বলুন, পরীক্ষার নম্বর নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। এটি কেবলই একটি ক্লাস পরীক্ষা। জীবনের আরও বহু পথ পাড়ি দিয়ে আরও বহু পরীক্ষার মুখোমুখি তাকে হতে হবে। ক্লাসের এই পরীক্ষাগুলো দিয়ে তাকে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করা হচ্ছে কেবলই।'

চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করা হয়, কেবলই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে সন্তানকে বিচার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার সন্তান নিঃসন্দেহে বহু সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী। তার সুপ্ত গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিন। তার হাত ধরে তাকে সুন্দর আগামীর পথে আপনি এগিয়ে নিয়ে চলুন।

ইউএনওর দপ্তর থেকে জানানো হয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসংখ্যা যুক্ত করে চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসংখ্যা অনুযায়ী অভিভাবকদের উদ্দেশে লেখা চিঠিগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের কাছে এ চিঠি পৌঁছে দেবে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের অধিকাংশ অভিভাবকের সন্তানদের পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। ক্লাসে সবাই ফার্স্ট হবে না এটাই স্বাভাবিক। কেবল পরীক্ষার রেজাল্টই জীবনে সফলতার একমাত্র সংজ্ঞা না। আমাদের প্রতিটা বাচ্চাই প্রতিভাবান। প্রতিটা বাচ্চাই কোনো না কোনো গুণের অধিকারী। তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি সেই প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া প্রতিটা অভিভাবকের কর্তব্য।

এ উদ্যোগ নেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবকেরা যেন তাদের সন্তানকে কেবল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে বিবেচনা না করেন। এ পৃথিবীর আলো বাতাসে তাদেরকে যেন দুই হাত ভরে নিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠতে সহযোগিতা করেন। প্রতিটা সন্তানের ওপর অভিভাবকের এই অকুণ্ঠ সমর্থন নিশ্চয়ই তাদের কোনা না কোনোভাবে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।

কামরুজ্জামান মিন্টু/মেহেদী/এমএ/

বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের একটি খাল থেকে শামীম (৩০) নামের এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে গৌরিচন্না বাজারসংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীম ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মুনসুর আলী বেপারির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১১টার পর থেকে শামীম নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সকালে খালের পাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়ে খালের পানিতে একটি মাথাবিহীন মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও মরদেহের অবস্থা দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। 

নিহতের স্বজনদের দাবি, শামীমকে হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ, সময় এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। নিখোঁজ মাথা উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

মহিউদ্দিন/নাঈম

চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধা কচ্ছপিয়া সংলগ্ন পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় দুই বাসের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে বাস চালক ও এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ প্রায় ৪০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ২টা ৩০টার মিনিটের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কলখুটাখালী ইউনিয়নের মপধা কচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালু জায়গায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতরা হলেন- দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক আলম, তার বাড়ি টেকনাফ এবং ৮মাস বয়সী এক শিশু।

​প্রত্যক্ষদর্শী সাঈদ বলেন, দুপুরে চকরিয়ার খুটাখালী মেধা কচ্ছপিয়া এলাকার একটি পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার এভারগ্রিন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী এএস আলম নামে একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসেরই সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই লোকাল বাসের চালক আলম ও এক শিশু মারা যায়। লোকাল বাসের ছাদ ভেঙে অনেক দূরে পড়ে যায়।

​দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে আহতদের নিকটবর্তী চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মালুম ঘাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ডুলাহাজারার উত্তরপাড়ার আয়েশ নূর (১ বছর ৪ মাস) ও আলীকদম বেগম (৩০) নামে এক নারীসহ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

​মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি জব্দ করে। পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে অতিরিক্ত গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত এভারগ্রিন বাসের যাত্রী মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, আমার মা নূর আইসাকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে হার্টের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলাম। সঙ্গে আমার বোন ফারজানা ও মামা ফয়েজ আহমদও ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমরা সবাই আহত হয়ে এখন নিজেরাই রোগীতে পরিণত হয়েছি।

অপরদিকে, এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে  চকরিয়ার কোরক বিদ্যাপীঠ স্কুলে থেকে জান্নাতুল মাওয়া তার বাবা ফরিদুল আলমের সঙ্গে লোকাল বাসে ককৃসবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। খুটাখালীর মেধাকষ্টপিয়াএলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে দুজনই আহত হন। এতে জান্নাতুল মাওয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা ফরিদুল আলমের হাত ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মালুম ঘাট  খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আরেকজন রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। 

রকিবুল/নাঈম

নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কয়েকটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিতে মৃত ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে বহাল রাখা, একই ব্যক্তির একাধিক সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পদধারণ এবং সদস্য তালিকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত, বিশেষ নিরীক্ষা (স্পেশাল অডিট) এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী মো. এমতাজ উদ্দিন সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধকের কাছে এ আবেদন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নাচোল উপজেলার ঘিওন মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড, সোনালী জাল মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড, শিবপুর-শিয়ালা মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড, হুলাশপুর মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড এবং কাতলাকান্দর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য তালিকা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতলাকান্দর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য তালিকায় এমন একজন ব্যক্তির নাম এখনও বহাল রয়েছে, যিনি ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। একইভাবে ঘিওন মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য তালিকাতেও ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণকারী এক ব্যক্তির নাম সদস্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অভিযোগকারীর দাবি, মৃত ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে বহাল রাখার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাই নয়, বরং সমবায় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এ ছাড়া একই ব্যক্তি একাধিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সদস্য বা পদাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত)-এর পরিপন্থী বলে আবেদনকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরে বাধ্যতামূলক অডিট সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও মৃত সদস্যদের নাম তালিকায় বহাল থাকার ঘটনা অডিট কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ সমিতি গঠন ও নিবন্ধন দেওয়ার মাধ্যমে সমবায় ব্যবস্থাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর নিবন্ধন বাতিল, অবৈধ ব্যবস্থাপনা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা, নতুন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মৃত ব্যক্তির নাম সদস্য তালিকায় থাকা এবং সমিতিগুলোর বিষয়ে নাচোল উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সদস্য তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতেই নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যদি কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সমিতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

অন্যদিকে, জেলা সমবায় কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. মুকলেসুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রায় দুই মাস আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়েছিল যে মৃত ব্যক্তিদের নাম সদস্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে যদি তা না হয়ে থাকে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সমিতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নিবন্ধন প্রদানের সময় যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হলে মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য সদস্যদের নামে সমিতি পরিচালনার সুযোগ থাকার কথা নয়। তাদের অভিযোগ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সমবায় কর্মকর্তাদের দায়িত্বে গাফিলতি কিংবা যোগসাজশের কারণেই এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছে। এমনকি কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নবিদ্ধ সমিতির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আব্দুল আজিজ/রিফাত/

নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে কোনো নদী-খাল-বিল কিছু নেই এমনই এক জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হচ্ছে মস্ত বড় এক ব্রিজ। যাতে ব্যায় হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ব্রিজটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।

ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে এত টাকা খরচ করে অযথা ব্রিজ নির্মাণ করা মানে সরকারি টাকার অপচয়। এ যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। এক সময় এখানে থাকা একটি খালের ওপর একটি সেতু ছিল। কিন্তু এখন ওই এলাকায় অনেক আগেই বাড়ি-ঘর তৈরি হয়েছে। ফলে নদী-খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। এক পাশে ছোট্ট একটি ডোবার মতো রয়েছে। তার ওপর মস্ত বড় সেতু নির্মাণ যেন এক আজব কল্পনা। স্থানীয়রা স্থানটিতে এতো টাকা ব্যায়ে কোনো সেতু নির্মাণ প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না। তারপরও অপরিকল্পিতভাবে সড়ক বিভাগ কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করে চলছেন মস্ত বড় সেতুটি। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে একসময় ছোট বড় অনেক সেতু থাকলেও সড়কটির বেশিরভাগ জায়গাতেই এখন কোনো সেতু নেই। প্রয়োজন না থাকায় সেতুগুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় অংকের টাকা খরচ করে একটি সেতুটির নির্মাণ নজর কেড়েছে। নদী ছাড়া, খাল ছাড়া পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন সেতু নির্মানের বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি তাদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে অবরন ট্রেডার্স লিমিটেড। যার স্বত্বাধিকারী মো. মাজেদ শেখ। ব্রিজটির প্রয়োজন এক সময় থাকলেও এখন আর এর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফজলুল রহমান বলেন, এখানে না আছে নদী-খাল, না আছে নালা। না আছে বড় কোনো জলাশয়। এ ছাড়া দু পাশেই রয়েছে বাড়ি-ঘর। এখানে এতো বড় ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে সরকারের বড় অংকের টাকা অযথা নষ্ট হচ্ছে। 

আরেক বাসিন্দা মো. তারা প্রামাণিক জানান, দুই পাশে বাড়ি-ঘর গড়ে ওঠার কারণে এখন আর এখানে ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এখানে এক সময় ব্রিজের খুব দরকার ছিল। কিন্তু সে ব্রিজ কালের বিবর্তনে এখন আর প্রয়োজন নেই। কারণ এখানে দুপাশে পানি প্রবাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সেতুটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবরন ট্রেডার্স লিমিটেডের দায়িত্বে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার বাবু হোসেন বলেন, সেতুটির দৈর্ঘ্যে ৪৪ মিটার। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। এখন সেতুর নিচের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে প্রয়োজন নেই তারপরও কি কারণে এখানে এতো বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহাঙ্গীর জানান, পূর্ব থেকেই এখানে ব্রিজ ছিল। যার কারণে আমরা প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানোর পর এটি পাস হয়ে এসেছে। যেহেতু এখানে ব্রিজ ছিল সেহেতু এখানে ব্রিজ তুলে ধরেই প্রতিবেদন পাঠাতে হবে আমাদের। ওই স্থানে ব্রিজ প্রয়োজন নাই এটা আমরা লিখতে পারিনা। 

নয়ন/নাঈম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা
বিএনপি নেতা শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম)। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেনের (সেলিম) বিরুদ্ধে। তিনি পৌরসভার সাহাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের দুই পাশের ১০টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির সুযোগে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। পরে ওই কাঠ স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।

গাছ ক্রয়ের বিষয়ে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দর বলেন, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ হওয়ায় আমি কিনতে চাইনি। আমাকে গাছ ক্রয় করার জন্য বলা হলে আমি বলি, ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তখন সেলিম ভাই, ইমাম মাস্টারসহ আরও চার-পাঁচজন বলেন, ‘তুমি গাছ কিনে নাও, সব ধরনের ঝামেলা আমরা সমাধান করব।’

এদিকে, সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো সড়কের গাছগুলো কাটার বিষয়ে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন কিংবা বন বিভাগের কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম) বলেন, সড়কটি আমি পৌরসভা থেকে লিজ নিয়েছি। আমি সেখানে প্রায় ৩০টি গাছের চারা রোপণ করেছি। গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেটে নিয়েছে।  

তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করা হয়েছে।

শাহরাস্তি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা বন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটা যায় না। তবে উক্ত সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কে গাছ লাগানো হলেও যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ তা কাটতে পারবেন না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি অবগত হয়েছি। বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফয়েজ/রিফাত/