ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার কারণে দূরপাল্লার যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। এতে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে এখন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিকদের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। বাসের চলাচল ধীর হয়ে যাওয়ায় আন্তঃজেলা বাস সার্ভিসগুলোর যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। এতে পরিবহন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে জেলায় দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে একটি বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বাসে যাতায়াত করা যাত্রীরা এখন ট্রেনে যাতায়াত করতে শুরু করেছেন। ঠাকুরগাঁও-ঢাকা রুটে ট্রেনের যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও ট্রেনের টিকিটের সংখ্যা সীমিত, তবুও অনেক যাত্রী শীতের তীব্রতা এবং দীর্ঘসময় সড়কপথে চলাচলের চেয়ে ট্রেনে যাতায়াতে বেশি স্বস্তিবোধ করছেন।
পরিবহন মালিকদের জন্য শীতকাল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে জেলা বাস মালিক সমিতির সদস্য আবদুল খালেক বলেন, ‘শীতের কারণে বাসের গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় আমাদের আয়ও কমে গেছে। আগে যেখানে একটি বাস ১২ ঘণ্টায় ঢাকা পৌঁছাতে পারত, সেখানে এখন ১৫ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগছে। এতে যাত্রী কমে গেছে। যাত্রী কমায় আমাদের আয় কমে গেছে; আনুষঙ্গিক খরচ বেড়েছে। শীতের সময় কুয়াশার কারণে বাস চলাচলে বিশেষ সতর্কতা নিতে হয়।
যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে খরচও বেড়ে যায়। যদি কিছু সময়ের জন্য ভাড়া বাড়ানো হয়, তা হলে আমরা সামান্য লাভবান হব। তবে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সহজ নয়। কারণ শীতে মানুষের আয়ও কমে যায়। আশা করছি, শীতের এই পরিস্থিতি সাময়িক ব্যাপার। শীতের প্রকোপ কমে গেলে সড়কপথে যানবাহনের গতি বাড়বে। যাত্রীসংখ্যা আবার আগের মতো স্বাভাবিক হবে।’
এদিকে শীতের কারণে মানুষ বাইরে কম বের হওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীসংখ্যাও কমেছে। এতে অটোরিকশার চালকদেরও আয় কমে গেছে। অটোরিকশাচালক শামীম বলেন, ‘যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের আয়ও অনেক কমে গেছে। আগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু এখন ২০০ থেকে ২৫০ টাকাও আয় করতে পারছি না।’ আরেক চালক হাসান বলেন, ‘শীতের কারণে মানুষ এখন বাইরে কম বের হচ্ছেন। সকালে ও সন্ধ্যায় যাত্রী কম পাচ্ছি।’
বাসযাত্রী সেলিম রেজা বলেন, ‘আগে ঢাকা যেতে আগে ১২ ঘণ্টা লাগত। এখন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগছে। শীতের কারণে গাড়ি চলাচল ধীর হয়ে গেছে। এটা খুবই বিরক্তিকর। তবে ট্রেন ভালো। কিন্তু সেখানে টিকিট পাওয়া কষ্টকর। শীতের মধ্যে দীর্ঘসময় বাসযাত্রা বেশ অস্বস্তিকর। তীব্র শীতে বাসযাত্রা শুধু শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বাসযাত্রা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাইনি। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বাসে যাচ্ছি।’