চট্টগ্রাম মহানগরের চাঁন্দগাও মোহরা পাইলট একাডেমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রকৌশলী দেদুল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আরেক শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। তবে এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন শিক্ষক ও তার পরিবার।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয়রা ধর্ষণের অভিযোগে তাকে আটক করে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক দেদুল বড়ুয়া চান্দগাঁও থানার মোহরা এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে থানায় সোপর্দ করা হলেও অভিযোগকারীর কোনো হদিস নেই। শিক্ষকের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ববি বড়ুয়া বলেন, মহিউদ্দিন, বাপ্পি, সাগর, বেলালসহ এলাকার কিছু ছেলে ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছে। তাদের সঙ্গে আমার স্বামীর আগে থেকে ঝামেলা ছিল। আমার স্বামী কষ্ট করে একেবারে শূন্য থেকে স্কুলটা দাঁড় করিয়েছে। তারা আমার স্বামীর কাছে বড় অংকের অর্থ দাবি করে। কিন্তু আমার স্বামী ওই অর্থ দেয় নাই। আগেও একবার তারা ঝামেলা করেছিল। সেটার সমাধানও হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, আজকের ঘটনার সময় মহিউদ্দিন, বাপ্পি, সাগর, বেলালসহ আরও অনেকে ছিল। আজ আমি যখন গিয়েছি ওরা আমার গায়েও হাত তুলেছে। বেলা ১টার দিকে মধ্যম মোহরা স্কুল ক্যাম্পাসে ঘটনাটা ঘটে। স্কুল ছুটি হয়ে যাবার পর ওই ম্যাডাম (সেতু আক্তার) চলে যান। পরে তিনি আবার এসে স্কুল অফিসে যান। তখন ছেলেগুলো এসে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয়। ওরা পরে আবার কৌশলে মহিলা টিচারকে সরিয়ে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীকে থানায় নিয়ে গেছে। থানা পুলিশও জানিয়েছে, এটা একটা ষড়যন্ত্র। ওই মহিলা টিচারকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মোহরা পাইলট একাডেমির শিক্ষক কাঞ্চন বড়ুয়া বলেন, আমরা বেলা ১টার দিকে স্কুল ছুটি দিয়ে সব টিচাররা মিলে যার যার বাসায় চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সেতু আক্তার নামক ওই ম্যাডাম ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আবার স্কুলে চলে যান। তখন ওই মহিলার সঙ্গে জড়িত ছেলেরা একটা নাটক সাজিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। মহিউদ্দিনসহ কিছু যুবক আমাদের স্কুলটাকে দমিয়ে রেখে মাদকের ব্যবসা বাড়াতে চায়। তাই মাসখানেক আগে মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন যুবকের নামে চান্দগাঁও থানায় আমরা আগে সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। মহিউদ্দিন ওই ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ চক্রান্তটা সাজায়।
সাবিকুন্নাহার নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার তিনটা নাতি এই স্কুলে লেখাপড়া করে। এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। ওই ছেলেগুলো আমাকেও মারধর করেছে।
রেনু নামের আরেক অভিভাবক বলেন, দশ বছর বয়স থেকে আমি তাকে (প্রধান শিক্ষক) চিনি। তার ব্যবহার খুব সুন্দর। তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো খারাপ অভিযোগ ছিল না।
চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তানভির আহমেদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে ওই শিক্ষককে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী নারী শিক্ষককে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি থানায় আসলে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মাহফুজ/মেহেদী