মৌলভীবাজারে হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.) শের সওয়ার চাবুকমার হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাহবুবে এলাহির ৬৮৪তম ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উরসকে ঘিরে জেলা শহরের শাহ মোস্তফা সড়কসহ আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মেলা।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই হাজারও দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে মেলায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাজারও মানুষ ভিড় করেন মেলায়। তবে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মেলায় পুরোদমে বেচাকেনা চলছে। মেলায় শিশুর খেলনা, সংসারের তৈজষপত্র, দা, খুন্তি, কাঠের আসবাব, প্রসাধনীসামগ্রী, কৃষিপণ্য, ফুলগাছ, তিলুয়া-বাতাসা, খই, চিড়াসহ নানা খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে, যা এই ঐতিহ্যবাহী মেলাকে প্রাণ দিয়েছে।
নরসিংদী থেকে কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে মেলায় এসেছেন জসিমউদ্দিন ও আখলাক মিয়া। তারা জানান, কাঠের তৈরি জিনিসপত্র মোটামুটি দামে সস্তা এবং এগুলো অনেক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। কাঠের তৈরি আসবাব রুচিশীল এবং মানসম্পন্ন হয়। তাই অনেক সৌখিন মানুষ এগুলো তাদের সংগ্রহে রাখেন।
পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা শহরের বনবিথী এলাকার শারমিন আক্তার বলেন, ‘এই মেলা আমাদের ঐতিহ্য। মেলায় নানা ধরনের খই ও চিড়া পাওয়া যায়, সেগুলো কিনতে এসেছি।’
শহরের আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ মহসিন পারভেজ জানান, মেলার অন্যতম আকর্ষণ খই, বিন্নি, বাতাসা, চিনি ও গুড়ের তৈরি জিলাপি এবং গরম পেঁয়াজুসহ হরেক রকমের খাবার। এ ছাড়াও রয়েছে মাটি, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা পণ্য। পাওয়া যাচ্ছে কামারের তৈরি দা-বঁটি, করাই এবং বাচ্চাদের খেলনা। এসব গৃহস্থালি পণ্য কিনতে মেলায় আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
ওরস কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘প্রতি বছর মাঘ মাসের শুরুতে এই ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসকে ঘিরে জেলা শহরের শাহ মোস্তফা সড়কসহ আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা। আর এই মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি শিশুদের নানা ধরনের খেলনা ও খাবারের অস্থায়ী দোকান বসে।’
মোতাওয়াল্লি সৈয়দ খলিলুল্লাহ ছালিক জুনেদ বলেন, ‘এ বছর হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র.) শের সওয়ার চাবুকমার হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাহবুবে এলাহির ৬৮৪তম ওরস মোবারক। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বাদ আসর মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মধ্য দিয়ে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরের দিন সকাল ৯টায় গিলাফ ছড়ানো হয়। বেলা ১১টায় শিরনি বিতরণ করা হয়। গতকাল বাদ ইশাহ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরস সমাপ্ত হয়।’