সামাজিক মাধ্যমে আজকাল গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান দিতে দেখা যাচ্ছে। সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরতদের বিস্তর তফাৎ রয়েছে। গোয়েন্দাদের (এজেন্ট) সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রয়োজন। এমনকি তাদের কোনো প্রকার উর্দি থাকাও উচিত নয়। সমাজ কিংবা আশপাশের কেউ যেন তাদের সম্বন্ধে জানতে বা আঁচ করতে না পারে। এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়োগ কবে হয়েছে তাও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপন রাখা বাঞ্ছনীয়। ব্যাপারটা বেশ কঠিন হলেও, এতে তাদেরই কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সাধারণের বেশে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রবেশ করে যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, গোয়েন্দা পরিচয়ে তা কঠিন হতে পারে! গোয়েন্দাদের মূলত জনসাধারণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তা আজকাল ফেসবুকে নিজের নাম-পরিচয় জানিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে করে পরবর্তীতে তিনি কোথাও তদন্ত বা অনুসন্ধানের কাজে গেলে সবার সতর্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফাঁকতালে আসল অপরাধীরা সটকে পড়ে গা ঢাকা দিতে পারে।
সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের অদক্ষতা আর খামখেয়ালিপনায় ডিবি পুলিশ অতীতে যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে! এমনকি ডিবি হারুন নিজেও মানুষের কাছে হাস্যরসের পাত্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন! গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার নামে হারুন অর রশীদ ডিবি কার্যালয়ে গড়ে তুলেছিলেন আলোচিত ‘ভাতের হোটেল’! সেখানে নিমন্ত্রণ পেতেন রাজনীতিবিদ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী! আর এসব ইস্যুতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আর হারিয়েছে তার ভাবমূর্তি।
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]