ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সফল ব্যবসায়ী হতে চাইলে এড়িয়ে চলুন ৯টি বিষয় ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন
Nagad desktop

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই ৫ বছরেও খোলেনি হোস্টেলের দুয়ার

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:০১ এএম
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১১:০৩ এএম
৫ বছরেও খোলেনি হোস্টেলের দুয়ার
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর আগে বানানো হোস্টেল দুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি: খবরের কাগজ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী না থাকার পরও তাদের জন্য বরিশালের বাবুগঞ্জে সরকারি অর্থায়নে আধুনিক দুটি আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বানানো ভবন দুটি  পাঁচ বছর আগে বানানো হলেও আজও উদ্বোধন করা হয়নি। নিয়োগ দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল। ফলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন দুটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ‘হোস্টেল নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্প গ্রহণ করে। ওই প্রকল্পের অধীনে বাবুগঞ্জে দৃস্টিপ্রতিবন্ধী বালক ও বালিকা নামে হোস্টেল নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ শেষে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দুই ঠিকাদার ভবন দুটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে।

৩২৭৮ বর্গফুট আয়তনের দ্বিতল ভবনে মোট কক্ষের সংখ্যা আটটি। হোস্টেল দুটির এক একটিতে আসন সংখ্যা ১০টি করে। হোস্টেল পরিচালনার জন্য রিসোর্স শিক্ষক একজন, হাউজ প্যারেন্ট একজন, রাঁধুনি একজন, অফিস সহায়ক একজন এবং নৈশপ্রহরী একজন নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ভবন নির্মাণের পাঁচ বছরেও ওই জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকতা জানান, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নির্দেশনায় বাবুগঞ্জে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও তার নিজ নামে হোস্টেল ভবন দুটির অনুমোদন করানো হয়। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন মন্ত্রী ক্ষমতার শতভাগ প্রভাব খাটিয়ে বিনা প্রয়োজনে ভবন দুটির বরাদ্দ করিয়েছিলেন, যা এখন কোনো কাজেই আসছে না।’ 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের কলেজ মোড়ে বাবুগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের বিপরীতে মেয়েদের হোস্টেলটি বলতে গেলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দৃষ্টিনন্দন ভবনটির নির্মাণকাজ শেষে এক দিনের জন্য প্রধান ফটক খোলা হয়নি। ফলে তালাবদ্ধ ভবনটির সীমানা প্রচীরের ভেতরে ঝোপ-জঙ্গলের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের মেঝেতে পুরু ধুলাবালির আস্তর জমে আছে। এ ছাড়া প্রধান ফটকেরর সামনেসহ সীমানা প্রাচীরে দেয়াল ঘেঁষে ভবনের বিপরীতে থাকা ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা নিয়মিত কাঠ শুকাচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল হাওলাদার বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েদের জন্য হোস্টেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও একবারের জন্য এই ভবনটির দরজা-জানালা খোলা হয়েছে- এমনটি আমরা দেখিনি। রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য কোনো স্টাফ না থাকায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের ভেতরে বিভিন্ন বিষধর প্রাণী বাসা বেঁধেছে। পাশাপাশি এই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।’

এদিকে বাবুগঞ্জ সদরের রাশেদ খান মেনন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের অংশে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বালক হোস্টেল। ৫ আগস্টের পরে ওই ভবনের জানালার গ্লাস ভেঙে বেশকিছু মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পাশাপাশি হোস্টেল ভবনসহ আশপাশের এলাকায় মাদকাসক্তদের আড্ডা বসত। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার এক শিক্ষককে তার পরিবার নিয়ে নিচতলায় এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আলাউদ্দিন দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছেন।

রাশেদ খান মেনন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্টাফ রাজিয়া খাতুন বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পরে হোস্টেলের জানালার গ্লাস ভেঙে মালামাল চুরি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন হোস্টেল ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডা হতো। চোরের হাত থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধেই ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক মিজানুর রহমান ও সমাজসেবার আলাউদ্দিন এখানে বসবাস করছেন। ফলে গত দুই মাস ক্যাম্পাসে আর মাদকাসক্তদের আড্ডা হয় না।

সমাজসেবা অধিদপ্তর বরিশালের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন খবরের কাগজকে বলেন, সমাজসেবা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এই হোস্টেল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা লেখাপড়া করবে। কিন্তু বাবুগঞ্জের ওই দুই বিদ্যালয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কোনো শিক্ষার্থী নেই। ভবন দুটি দ্রুত চালু করে সরকারের অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় কি না সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত জানানো হয়েছে। আগামীতে মন্ত্রণালয়ের সভা রয়েছে। ওই সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

মাদক ও তামাকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ৪৮ দল নিয়ে ব্যতিক্রমী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বোয়ালমারী মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ নামে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে স্থানীয় বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পরে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য যুবসমাজকে মাদক ও তামাক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর বোয়ালমারী পৌর শাখার আমীর মাওলানা সৈয়দ নিয়ামুল হাসান, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন মিয়া দীপু প্রমুখ। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন, বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাজ্জাদ হোসাইন প্রমুখ।

সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘পুলিশ, ইউএনও একা নন, ওনাদের সঙ্গে জনগণ আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করলে মাদকসেবীদের কেউ বাঁচাতে পারবে না।’

ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা তার বক্তব্যে বলেন, ‘গাঁজা, ইয়াবা খেয়ে জীবনটা ধ্বংস করার মানে হয় না। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন যা করছেন তা যথেষ্ট নয়। যুবসমাজকে বাঁচাতে হবে। এজন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। খেলাধুলার ভেদাভেদ ভুলাতে সাহায্য করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা-মা জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছেন। তাদের সুযোগ্য সন্তানও (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) দক্ষ মানুষ গড়ার চেষ্টা করছেন। তিনি ব্যর্থ হলে মানুষের আর স্বপ্ন থাকবে না।’

এন কে বি নয়ন/অন্তরা

শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ
বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখা মনি আক্তার। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে মনি আক্তার (৩১) নামের দুই সন্তানের জননীকে মারধর ও চুল কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। 

এ সময় অভিযুক্তরা ওই নারীকে মেরেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা ও জুতার মালা পরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এমন ঘটনায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌর এলাকার উত্তর পালং শাবনূর মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মনি আক্তার নামের ওই নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি মনি আক্তারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় প্রতিবেশী দেলোয়ার দপ্তরি ও তার পরিবারের। শনিবার সকালে ওই নারীকে আপোষ মীমাংসার জন্য বাড়িতে ডেকে নেন দেলোয়ার দপ্তরির পরিবারের সদস্যরা।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে মনি আক্তারকে মারধর করে চুল কেটে দেয় দেলোয়ার দপ্তরির ছেলে পলক, মেয়ে মৌসুমী, স্ত্রী আমেনা ও আত্মীয় রহিমা। মারধর ও চুল কাটা শেষে অভিযুক্তরা মনি আক্তারকে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে মুখে আলকাতরা মেখে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমি কোন মাদক বিক্রি করি না। আপনারা চাইলে আমার মোবাইল চেক করে দেখতে পারেন। যদি কোনো প্রমাণ পান, তাহলে যেই শাস্তি হবে তা আমি মেনে নেব। দেলোয়ার দপ্তরি আমার থেকে টাকা নিয়েছে, সেই প্রমাণ হিসেবে সে নিজেই ঢাকা গিয়ে আমাকে সই করে স্ট্যাম্প দিয়ে এসেছে। এখন সেই টাকার স্ট্যাম্প ফেরত নিতে সে তার পরিবারের লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করেছে, চুল কেটে দিয়ে মুখে আলকাতরা মেখে বেঁধে রেখেছে। আমাকে পলক হকস্টিক দিয়ে পিটিয়েছে। আমি বাঁচতে এক বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখান টেনে টেনে এনে মারধর চালায়। আমি অন্যায় করলে তারা আইনের আশ্রয় নিতো। এভাবে কেন মারল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে ওদের বিচার চাই।’

তবে অভিযুক্তদের দাবি, ‘মনি আক্তার মাদক বিক্রি করেন। তাছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে থাকেন।’ 

দেলোয়ার দপ্তরির মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘আমরা মনি আক্তারকে ছোট থেকেই কাকি বলে ডাকি। সে আমার আব্বুকে ভাই ডেকে পরকীয়া করেছে। আজ তাকে আপোষে ডেকেছিলাম কিন্তু সে গালাগালি করায় মহিলাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।’

তাকে কেন বেঁধে রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ও আমার বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তাই তাকে বেঁধে রেখেছি। সে মাদক বিক্রি করে, তাকে সার্চ করলে মাদক পাওয়া যাবে।’

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আমরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ওনি সুস্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিধান মজুমদার/আজহার

চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর রাফিন (২০) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খাল থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাফিন আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় পাখিভ্যানচালক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে কুতুবপুরের অর্জুন খালের পাশে একটি মরদেহ পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে শনিবার (১৩ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
নিহতের দাদি আমেনা বেগম জানান, গত ৫ জুন সকালে রাফিন তার পাখিভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ওইদিন রাত ৮টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, রাফিনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করা হয়।

স্বজনদের দাবি, অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তারা রাফিনের অবস্থান জানতে চাইলে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

মিজানুর রহমান/খাদিজা রুমি/

কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক হজযাত্রীর ফেলে আসা লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টা থেকে উপজেলা সদরের কদমতলী এলাকায় স্থানীয় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজনদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা চলতি বছর কসবা হজ কাফেলার মাধ্যমে হজে যান। তিনি ফেরার পথে তার একটি লাগেজ সৌদি আরবে ফেলে আসেন। লাগেজটি ফিরিয়ে আনার জন্য বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ওই বৃদ্ধার পরিবার হজ অ্যাজেন্সিতে গিয়ে চাপ দেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লাগেজের দায়িত্ব হজযাত্রীর বলে জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বৃদ্ধার স্বজনরা হজ অ্যাজেন্সিতে ভাঙচুর চালান। এরই জেরে  শনিবার (১৩ জুন) সকালে কদমতলি এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। 

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা খবরের কাগজকে জানান, লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

আজিজুল সঞ্চয়/খাদিজা রুমি/ 

নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান!

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম
নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান!
শিবির নেতা জিসান মিয়া। ছবি: খবরের কাগজ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের চাঞ্চল্যকর ‘নিখোঁজ নাটকে‘’ অবসান ঘটেছে। পুলিশের দাবি, জিসান আসলে নিখোঁজ ছিলেন না, বিয়ে এড়াতে নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
 
পুলিশের তথ্যমতে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
 
ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে গর্ভপাত করানো হয় এবং এ ঘটনায় জিসানের কয়েকজন সহযোগীর সম্পৃক্ততার তথ্যও পুলিশ তদন্তে পাওয়া গেছে।
 
পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন জিসান। কিন্তু তার আগের রাতেই তিনি আত্মগোপনে যান এবং নিজের চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান বলে দাবি পুলিশের।
 
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল বারী বলেন, নিখোঁজের অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। এরপর ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেন।
 
বর্তমানে আসামি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। 
 
লিটন সরকার/আজহার/