পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে প্রাচীন বাংলার রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোতে বেড়েছে বিনোদন প্রেমী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে হওয়ায় সোনারগাঁ ভ্রমণে এসে মনোরম পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করেছেন দর্শনার্থীরা।
বুধবার (২ এপ্রিল) সোনারগাঁয়ের জাদুঘর, বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিসহ উপজেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সোনারগাঁয়ের লোক কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ঈদকে ঘিরে দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
ছবি: খবরের কাগজ
দিনভর সোনারগাঁ জাদুঘর, বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটি ঘুরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে প্রবেশ পথের সড়কগুলোতে। যানজট এড়িয়ে অনেককে পায়ে হেঁটে বিনোদন কেন্দ্রমুখী হতে দেখা গেছে।
স্থানীয় জানায়, ঈদের দিন থেকে সোনারগাঁয়ে সারাদেশ থেকে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েছে। এবার সোনারগাঁ জাদুঘর, বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটি ছাড়াও সোনারগাঁয়ের গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতিবসুর, কাইক্কারটেক ব্রিজ, অলিপুরা ব্রিজ এবং মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার ঘাটে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় সোনারগাঁর কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো।
ঈদ উপলক্ষে পরিবার পরিজন নিয়ে পানাম নগরীরতে ঘুরতে আসা রাজধানীর খিলগাঁয়ের বাসিন্দা তপন সরকার বলেন, রাজধানী ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় ঈদের ছুটিকে পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে ঐতিহ্যের বাহক সোনারগাঁয়ে ঘুরতে এসেছি। মুঘল আমলের প্রাচীন নিদর্শনের অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে এখানে। আমাদের খুবই ভালো লাগছে এখানে ঘুরতে এসে।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘরে বেড়াতে আসা মতিউর রহমান বলেন, আমি পরিবারকে নিয়ে এখানে ঘুরতে আছি। এখানে ইতিহাস সম্পর্কে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। তাই বাচ্চাদের এখানে ঘুরতে নিয়ে এসেছি।
ছবি: খবরের কাগজ
সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলার তাজমহল ঘুরে আশরাফুল আলম বলেন, ভারতে যাওয়ার সময় ও সুযোগ না থাকায় স্বপরিবারে সোনারগাঁয়ে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে এলাম। আগ্রার তাজমহলে যাবার সৌভাগ্য না হলেও বাংলার তাজমহল দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বাংলার তাজমহল অনন্য নিঃসন্দহে। এটি গরীবের তাজমহল বলে আখ্যা দেওয়া যায়।
এই তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা ও চিত্রপরিচালক আহসান উল্লাহ মনির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাংলার তাজমহলে ও পিরামিডে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী রাজিয়ার জন্য কবরের স্থান সংরক্ষিত রয়েছে। আর এই ভালোবাসার গভীরতা ধরে রাখতে সম্রাট শাজাহানের মত চির অম্লান করে রাখার জন্য বাংলার তাজমহল তৈরি করেছি। দেশের দরিদ্র মানুষ, যাদের ভারতে গিয়ে আগ্রার তাজমহল দেখার সামর্থ্য নেই তারা যেন তাজমহল দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এটি নির্মাণ করেছি।
এবার ঈদে দর্শনার্থীদের সমাগমের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁ জাদুঘর) এর রেজিস্ট্রেশন অফিসার একে এম মুজ্জাম্মিল হক জানান, এবারে আশানুরূপ দর্শনার্থীদের সমাগম হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ কয়েক হাজার দর্শনার্থী জাদুঘরে আদিরূপ উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য এখানে পর্যাপ্ত আনসার, পুলিশ এবং টুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান জানান, সোনারগাঁয়ে বেশকিছু পর্যটনকেন্দ্র তৈরি হওয়ায় পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে সোনারগাঁয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি থানা পুলিশের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
ইমরান হোসেন/মাহফুজ