চুয়াডাঙ্গায় কয়েকদিন ধরে দাবদাহ বয়ে চলছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই কাজের উদ্দেশে বের হতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে ভ্যানচালক ইব্রাহিম বলেন, ‘অনেক গরম পড়েছে। প্যাডেলে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘামতে শুরু করি। শরীর ভিজে যায় ঘামে। কষ্ট হলেও জোর করে ভ্যান নিয়ে বের হই; বসে থাকলে তো সংসার চলবে না। মাঝেমধ্যে মাথা ঘুরায়। পান করার জন্য ঠিকমতো পানিও পাই না।’
পৌরসভার পাশে পথচারী আলামীন বলেন, রাস্তায় দাঁড়ালে মনে হয় আগুন ঝরছে। মাথা গরম হয়ে যায়। শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পুরো গা ঘেমে যায়। হাতিকাটা মোড় এলাকায় দিনমজুর সোনা মিয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, রোজগার না করলে ঘরে চুলা জ্বলবে না। এই গরমে কাজ করলে শরীর ধরে আসে, কিন্তু কী করব?’ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সকালেই বের হই, তারপরও সারা দিন রোদে ঘুরি। গরমে শরীর কাহিল হয়ে যায়, মাথা ব্যথা করে। তবু চাকরির জন্য বের হতে হয়।’
এই অস্বাভাবিক গরমে শুধু শ্রমজীবী নয়, শিশু ও বয়স্করাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ঘামজনিত সমস্যার রোগী বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল বিকেলে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।