জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি হিসেবে বিবেচিত হাওর অঞ্চলের অভিঘাত মোকাবেলায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেছে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা।
শুক্রবার (৩০ মে) রাতে সিলেট নগরীর ইমজা কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এই দাবি তুলে ধরেন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।
সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রজত সরকার।
আলোচনায় মুখ্য প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাসমির রেজা।
প্রধান আলোচক ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাক আহমদ।
বিশেষ আলোচক ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদা সুলতানা, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাত চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসিনা বেগম, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক শহীদুল ইসলাম সোহেল, এবং কবি পুলিন রায়।
মূল প্রবন্ধে কাসমির রেজা ১৬ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল হাওর অঞ্চলের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হাওরে মাছের প্রজননকালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ এবং সেই সময় জেলেদের জন্য প্রণোদনা প্রদান, বজ্রপাত রোধে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য বাজেট বরাদ্দ, সুনামগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস স্থাপন, হাওরের বিদ্যালয়ের জন্য সরকারিভাবে নৌকা বরাদ্দ, গ্রাম রক্ষায় প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ফসল রক্ষাবাঁধের বিকল্প হিসেবে নদী ও বিল ক্যাপিটাল ড্রেজিং, স্বল্প জীবনের ধানের জাত উদ্ভাবন ও কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে বাজেট বরাদ্দ, উন্মুক্ত জলাশয়ে লিজ ব্যবস্থা বন্ধ ও অভয়াশ্রম সংরক্ষণ, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে অধিক হারে ধান ক্রয়, পরিবেশ রক্ষায় টেকসই কর্মসূচি গ্রহণ, চলমান প্রকল্প যেমন উড়াল সেতু, সীমান্ত সড়কের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, সরকারি কর্মচারীদের জন্য হাওর ভাতা চালু, বিকল্প কর্মসংস্থান, শিল্প ও সেবাখাত প্রসার, পরিবেশবান্ধব ও কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থা।
এ ছাড়াও সব প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ আলোচক অধ্যাপক মাহমুদা সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, ‘হাওর এলাকার কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, যাতে শহরের উপর চাপ না পড়ে। স্বাস্থ্য ও নিষ্কাশন খাতে আরও বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। উচ্চ আয়ের পরিবারগুলো তাদের অতিরিক্ত ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করলে কমিউনিটি ভিত্তিক ট্যুরিজম বাড়বে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে।’
অধ্যাপক ড. মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘উন্নয়নের নামে যেন হাওরের ক্ষতি না হয়। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে হাওরকেন্দ্রিক গবেষণার কেন্দ্র হতে হবে।’
অধ্যাপক ড. শাহাদাত চৌধুরী হাওরের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে হাওর এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা প্রস্তাবিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে হাওরবাসীর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।’
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপিকা শাহীন আক্তার, নারী উদ্যোক্তা সেলিনা চৌধুরী, সুলতানা রাজিয়া কলি, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জেনারুল ইসলাম, নারজেল হোসেন, ক্লিন সিটি সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা নাজিব আহমেদ, নাবিদ হাসান ও হাবিবুর রহমান মাসরুর প্রমুখ।
রিফাত/অমিয়/