বর্ষা মৌসুম এলে খুলনা নগরীতে দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় জলাবদ্ধতা। সমস্যা নিরসনে ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে সিটি করপোরেশন প্রায় ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার করলেও অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে এর সুফল মিলছে না।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ জুন) মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকার মূল সড়কসহ অলিগলি ডুবে যায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবীরা। এর মধ্যে নগরীর রয়েল মোড়, খানজাহান আলী সড়ক, শামসুর রহমান রোড, আহসান আহমেদ রোড, বাইতিপাড়া, বাস্তুহারা, চাঁনমারী, লবণচরা, টুটপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, গোবরচাকা এলাকার মূল সড়কে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকায় সড়কের পাশে বাড়িঘর, দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। রাস্তাঘাট তলিয়ে সড়কে চলাচলরত যানবাহনের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যায়।
নাগরিক নেতাদের দাবি, নিয়মিত ড্রেনের পেড়ি মাটি উত্তোলন ও পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশনের অধিকাংশ ড্রেন বন্ধ, বৃষ্টির পানি বেরিয়ে যাওয়ার পথ নেই। এ ছাড়া নগরীর ২২টি খাল এখনো দখলমুক্ত হয়নি, ফলে জলাবদ্ধতা দূর হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, নগরজুড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হলেও জলাবদ্ধতার পুরোনো ভোগান্তি রয়েই গেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। ফলে বৃষ্টির পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরবাড়ি ডুবে থাকে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার ড্রেনেজব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। সিটি করপোরেশন প্রায় ১৪০০কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন করেছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, সংস্কারের নামে বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ড্রেন উঁচু করা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়।
তবে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, রূপসা ও ভৈরব নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় শহরের পানি নামতে পারে না। ফলে জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে নদীর পাশে কয়েকটি পয়েন্টে পাম্প স্টেশন করে সেখান থেকে পাম্পের সাহায্যে শহরের পানি নদীতে অপসারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, কেডিএর সড়ক নির্মাণকাজে লবণচরা ও মতিয়াখালি ড্রেনের পানি রূপসা নদীতে নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে রূপসা লবণচরা, মোল্লাপাড়া, মহিবাড়ি খালপাড়, জিন্নাহ পাড়া, দারোগা পাড়াসহ আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, কেসিসির চলমান ড্রেনেজ প্রকল্প শেষ হলে জলাবদ্ধতার সংকট কাটবে। এর মধ্যে নদীসংলগ্ন পাম্প হাউস নির্মাণ হলে জোয়ারের সময় শহরের পানি পাম্প করে নদীতে অপসারণ করা যাবে।