যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশের মতো রংপুরেও গড়ে উঠেছিল যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রায় ৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি এখন ভূতুড়ে অবস্থা। হাঁস-মুরগির খামার, কৃষি হর্টিকালচারসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হয় যুবকদের। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের নেই পর্যাপ্ত আবাসনব্যবস্থা ও ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়ার মতো উপকরণ। ফলে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে মুরগির ফার্ম, গরুর খামার ও ব্যবহারিক ক্লাসের অন্য উপকরণগুলো।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যুব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণার্থী থাকলেও পর্যাপ্ত আবাসনব্যবস্থা, ব্যবহারিক পরীক্ষার সরঞ্জামাদি, জনবলসংকটে ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি জাপান সরকার বাংলাদেশ থেকে আগামী ৫ বছরে ৫টি ফিল্ডে ১ লাখ প্রশিক্ষিত লোক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ থেকে যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন যুবকদের জাপানে পাঠানোর লক্ষ্যে ‘গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষিবিষয়ক’ প্রশিক্ষণটি অন্যতম করা হয়েছে। ফলে এই প্রশিক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের বেকার যুবকরা। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে গত ৯ জুলাই প্রশিক্ষণ নিতে আসেন রংপুরের গঙ্গাচারা উপজেলার লোকমান হোসাইন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভবনের কক্ষে ঢোকার মতো পরিবেশ নেই। যেখানে সরকারের এত এত উন্নয়ন হচ্ছে, সেখানে রংপুরকে এখানেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
রংপুর যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২৭০ জন। এর মধ্যে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষিতে দুই ব্যাচে ৩ মাসমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছে ১২০ জন। হাঁস-মুরগি পালন এক ব্যাচে ১ মাসমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৫০ জন। কৃষি ও হর্টিকালচার ১ ব্যাচে ১ মাসমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৫০ জন। গবাদিপশু পালন ১ ব্যাচে ১ মাসমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৫০ জন। বর্তমানে ৬০ জনের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন রংপুর সদরের বড় বাড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচটারী এলাকার মাহবুব হোসেন মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ ঠিকঠাক মতো হয়েছে। এখানে আমি তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এটি দিয়ে এখন পল্লি চিকিৎসা করে পরিবার চলছে। মোটামুটি স্বাবলম্বী হয়েছি। এখানে যারা প্রশিক্ষণ দেন, প্রায় সবাই বিসিএস ক্যাডার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা পড়াশোনা করে এসেছেন। কিন্তু কষ্টের বিষয় হলো, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো নিজস্ব ভবন নেই। দীর্ঘদিনের একটি প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন নেই।’
রংপুর নগরীর খটখটিয়া এলাকার রাজল মিয়া বলেন, ‘অনেকেই প্রশিক্ষণ নেন এবং স্বাবলম্বী হন। আমিও হয়েছি। এখানে যারা প্রশিক্ষণ দেন, তারা অনেক অভিজ্ঞ মানুষ। সমস্যা হলো আবাসন ক্লাসরুমগুলো। দেশের অনেক যুব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন পেয়েছে। কিন্তু রংপুর পায়নি। এটা দুঃখজনক।’
রংপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা নেই। সেগুলোর চাহিদা পাঠানো হবে। আর ভবনের একটি চাহিদা দেওয়া আছে। সেটি দ্রুতই পাস হওয়ার কথা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ফান্ড আছে। কিন্তু করছে না কেন, সেটি জানা নেই।’