ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু! মানিকগঞ্জে বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত ছেলে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০ ড. ইউনূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে : মির্জা ফখরুল
Nagad desktop

দৌলতপুর সীমান্তে ১০ কোটি টাকার মাদক ও অস্ত্রসহ আটক ২

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:৫৮ পিএম
দৌলতপুর সীমান্তে ১০ কোটি টাকার মাদক ও অস্ত্রসহ আটক ২
আটক ২ আসামি। ছবি: খবরের কাগজ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, দুটি বিদেশি পিস্তলসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকদের একজন হত্যা মামলার আসামি।

শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- মহিষকুন্ডি ঠোঁটারপাড়া গ্রামের সিনবাদ আলী (২৭) এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মিন্টু হোসেন (২৯)।

অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ৯০ বোতল ফেনসিডিল ও ৫০ মিলি লিটারের ২০ বোতল এলএসডি জব্দ করা হয়। এসবের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা।

শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক সিনবাদ আলী দৌলতপুর আশ্রায়ন বিওপি এলাকায় গত জুন মাসে সংঘটিত মোহন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিষকুন্ডি ঠোঁটারপাড়া মাঠে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে মোহন আলী (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক জাকিরুল ইসলাম বলেন, “জব্দ করা মাদক ও অস্ত্রসহ আটক আসামিদের থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম চলছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সজাগ রয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মিলন উল্লাহ/নাঈম/

নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে কোনো নদী-খাল-বিল কিছু নেই এমনই এক জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হচ্ছে মস্ত বড় এক ব্রিজ। যাতে ব্যায় হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ব্রিজটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।

ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে এত টাকা খরচ করে অযথা ব্রিজ নির্মাণ করা মানে সরকারি টাকার অপচয়। এ যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। এক সময় এখানে থাকা একটি খালের ওপর একটি সেতু ছিল। কিন্তু এখন ওই এলাকায় অনেক আগেই বাড়ি-ঘর তৈরি হয়েছে। ফলে নদী-খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। এক পাশে ছোট্ট একটি ডোবার মতো রয়েছে। তার ওপর মস্ত বড় সেতু নির্মাণ যেন এক আজব কল্পনা। স্থানীয়রা স্থানটিতে এতো টাকা ব্যায়ে কোনো সেতু নির্মাণ প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না। তারপরও অপরিকল্পিতভাবে সড়ক বিভাগ কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করে চলছেন মস্ত বড় সেতুটি। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে একসময় ছোট বড় অনেক সেতু থাকলেও সড়কটির বেশিরভাগ জায়গাতেই এখন কোনো সেতু নেই। প্রয়োজন না থাকায় সেতুগুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় অংকের টাকা খরচ করে একটি সেতুটির নির্মাণ নজর কেড়েছে। নদী ছাড়া, খাল ছাড়া পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন সেতু নির্মানের বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি তাদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে অবরন ট্রেডার্স লিমিটেড। যার স্বত্বাধিকারী মো. মাজেদ শেখ। ব্রিজটির প্রয়োজন এক সময় থাকলেও এখন আর এর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফজলুল রহমান বলেন, এখানে না আছে নদী-খাল, না আছে নালা। না আছে বড় কোনো জলাশয়। এ ছাড়া দু পাশেই রয়েছে বাড়ি-ঘর। এখানে এতো বড় ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে সরকারের বড় অংকের টাকা অযথা নষ্ট হচ্ছে। 

আরেক বাসিন্দা মো. তারা প্রামাণিক জানান, দুই পাশে বাড়ি-ঘর গড়ে ওঠার কারণে এখন আর এখানে ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এখানে এক সময় ব্রিজের খুব দরকার ছিল। কিন্তু সে ব্রিজ কালের বিবর্তনে এখন আর প্রয়োজন নেই। কারণ এখানে দুপাশে পানি প্রবাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সেতুটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবরন ট্রেডার্স লিমিটেডের দায়িত্বে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার বাবু হোসেন বলেন, সেতুটির দৈর্ঘ্যে ৪৪ মিটার। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। এখন সেতুর নিচের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে প্রয়োজন নেই তারপরও কি কারণে এখানে এতো বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহাঙ্গীর জানান, পূর্ব থেকেই এখানে ব্রিজ ছিল। যার কারণে আমরা প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানোর পর এটি পাস হয়ে এসেছে। যেহেতু এখানে ব্রিজ ছিল সেহেতু এখানে ব্রিজ তুলে ধরেই প্রতিবেদন পাঠাতে হবে আমাদের। ওই স্থানে ব্রিজ প্রয়োজন নাই এটা আমরা লিখতে পারিনা। 

নয়ন/নাঈম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা
বিএনপি নেতা শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম)। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেনের (সেলিম) বিরুদ্ধে। তিনি পৌরসভার সাহাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের দুই পাশের ১০টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির সুযোগে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। পরে ওই কাঠ স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।

গাছ ক্রয়ের বিষয়ে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দর বলেন, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ হওয়ায় আমি কিনতে চাইনি। আমাকে গাছ ক্রয় করার জন্য বলা হলে আমি বলি, ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তখন সেলিম ভাই, ইমাম মাস্টারসহ আরও চার-পাঁচজন বলেন, ‘তুমি গাছ কিনে নাও, সব ধরনের ঝামেলা আমরা সমাধান করব।’

এদিকে, সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো সড়কের গাছগুলো কাটার বিষয়ে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন কিংবা বন বিভাগের কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম) বলেন, সড়কটি আমি পৌরসভা থেকে লিজ নিয়েছি। আমি সেখানে প্রায় ৩০টি গাছের চারা রোপণ করেছি। গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেটে নিয়েছে।  

তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করা হয়েছে।

শাহরাস্তি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা বন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটা যায় না। তবে উক্ত সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কে গাছ লাগানো হলেও যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ তা কাটতে পারবেন না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি অবগত হয়েছি। বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফয়েজ/রিফাত/

বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়িউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও দুই ঘণ্টার চেষ্টার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপারেশন ডেভিল হান্ট চলাকালে বড়িউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা কফিল উদ্দিন।

সম্প্রতি ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে চান। কিন্তু তিনি নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে প্রভাব কাটিয়ে দায়িত্ব নিতে চাইলে কফিল উদ্দিন আপত্তি জানান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিরোধ তৈরি হয়।

সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও কফিল উদ্দিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যকার পূর্ববিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

কাজল সরকার/সালমান/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরু মিয়া (৬৫) ও সানাউল্লাহ (১৮) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- নেয়ামতপুর গ্রামের জমির হোসেনের ছেলে নুরু মিয়া (৬৫) এবং মর্জু মিয়ার ছেলে সানাউল্লাহ (১৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত মতি সরকারের স্ত্রীর মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানে কবর খুঁড়তে যান স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় কবর ঢাকার জন্য ব্যবহৃত স্টিলের একটি শিল্ড সরানোর সময় কবরস্থানের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই সানাউল্লাহর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরু মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিক আকরাম জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত একজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। অপরজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আজিজুল সঞ্চয়/রিফাত/

টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয় বন্ধের দিনে নষ্ট ফ্যান, পরিত্যক্ত ভবনের জানালা, বিনামূল্যের বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক এবং দপ্তরির বিরুদ্ধে। রেজুলেশন বা টেন্ডার না করেই এগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্তদের দাবি প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তারা এগুলো বিক্রি করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপদভঞ্জন অধিকারী ও দপ্তরি গণেশ টিকাদার।

এলাকাবাসী খবরের কাগজকে জানান, অভিযুক্তরা গত ২৯ মে ওই বিদ্যালয়ের নষ্ট চারটি ফ্যান, পরিত্যক্ত ভবনের অন্তত ২০টি লোহার জানালা বিনামূল্যে বিতরণের বই ও পরীক্ষার খাতা বিক্রি করে দেন। বিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, বিদ্যালয় বন্ধের দিনে গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি পুরাতন ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা খুলে নিয়ে যায় সহকারী শিক্ষক বিপদভঞ্জন অধিকারী ও দপ্তরি গণেশ টিকাদার। পরে তারা সেগুলো বিক্রি করে দেন। এছাড়া বই ও খাতাও বিক্রি করেছেন। তবে পরীক্ষার
খাতা অন্তত এক বছর সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের পরীক্ষার খাতা এক বছর সংরক্ষণ করে ২০২৭ সালে বিক্রি করা যায়। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ করার সময় ৬০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুরনো শিক্ষাবর্ষের বই নিয়ে নেওয়া হয়। ওই সব পুরাতন বইও বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক বিপদভঞ্জন অধিকারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার আমাকে ফোন করে বইখাতা, ফ্যান ও জানালা বিক্রি কারার নির্দেশ দেন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘দপ্তরি আর আপনি সামনে থেকে এগুলো বিক্রি করেন’। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বই, খাতাসহ নষ্ট ৪টি ফ্যান ও পরিত্যাক্ত ভবনের জানালা ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। 

দপ্তরি গণেশ টিকাদার বলেন, ‘আমি সামান্য পোস্টে চাকুরি করি। আমি নিজে কখনও এগুলো বিক্রি করার অধিকার রাখি না। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এগুলো বিক্রি করেছি। এ সময় বিপদভঞ্জন অধিকারী স্যারও উপস্থিত ছিলেন’।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার বলেন, ‘শুধু পুরাতন বইখাতা বিক্রি করতে বলা হয়েছিল দপ্তরিকে। কিন্তু তার সঙ্গে ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা বিক্রির বিষয়ে জানি না। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন? এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর না দিয়ে, বিদ্যালয় ত্যাগ করেন প্রধান শিক্ষক।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বই, খাতা, ফ্যান ও জানালা বিক্রি করতে অবশ্যই টেন্ডার দিতে হবে। তবে সামান্য কিছু বই-খাতা বিক্রির উপযোগী হয় সেটা রেজুলেশন করলেই হয়। কিন্তু রেজুলেশন বা টেন্ডার ছাড়া এগুলো বিক্রির
সুযোগ নেই। এখানে স্কুলের মালামাল বিধি লঙ্ঘন করে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাদল সাহা/থিও/