পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শুকানি সীমান্তের করতোয়া ও সাও নদীর মিলনস্থল থেকে নিখোঁজের ২ দিন পর মানিক হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের শুকানী সীমান্তের ওই স্থানে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও বিজিবিকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভোরে সীমান্তে গরু আনতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিএসএফ। এ সময় বাকিরা পালিয়ে গেলেও নিখোঁজ হন মানিকসহ ৪ জন।
নিহত মানিকের বাড়ি তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়।
জানা গেছে, নিখোঁজ বাকি ৩ জনের মধ্যে আব্দুল হুদা ওরফে জমির উদ্দিন নামে একজনকে শনিবার সকালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। তার বিরুদ্ধ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এখনো আরও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
দেবনগড় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইবুল ইসলাম বলেন, 'ওইদিন রাতে কয়েকটি দল সীমান্তে গরু আনতে গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এর পর থেকে ৪ জন নিখোঁজ ছিল। আজ মানিকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে। বিএসএফই তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কেউ অপরাধ করলে তাকে প্রচলিত আইনে শাস্তি দেওয়া হোক কিন্তু নির্বিচারে গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেই এখনো যে দুজন ভারতে আটক আছে তাদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'
তেঁতুলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজির হোসেন বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি। নিহত যুবকের মাথায় গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মাথার পেছনে গুলি ঢুকে চোখের পাশ দিয়ে বেড়িয়ে গেছে। তবে নিখোঁজের বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই যুবকের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া ভারতের অভ্যন্তরে আটক করে একজনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে।
রনি/মেহেদী/