পঞ্চগড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অন্তঃসত্ত্বা দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু এক বছর ধরে এ কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত ৬০২ অন্তঃসত্ত্বা এক টাকাও পাননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রতারক চক্র মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতির অপব্যবহার করে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৫৭৭ জন, বোদা উপজেলার ২২ জন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩ অন্তঃসত্ত্বা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে একজন অন্তঃসত্ত্বার ৮০০ টাকা ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর ধরে ওই নারীরা টাকা পাননি। অনেকে একবার ভাতা পেলেও পরে আর পাননি। অথচ সরকারি নথিপত্রে দেখা গেছে, তাদের নামেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
চতুরতার সঙ্গে প্রতারণাকরা হয়েছে। ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হস্তক্ষেপ করে চক্রটি বিকাশ/নগদ/রকেটের মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগীরা কিছু না জেনেই বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার ফাতেমা বানু বলেন, ‘কার্ড হওয়ার পর একবার টাকা পেয়েছিলাম, এরপর আর পাইনি। পরে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে গিয়ে জানতে পারি, আমার নামে অন্য কেউ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা তুলেছে। আমরা তো গরিব মানুষ, এই টাকাটা অনেক বড় সহায়তা ছিল। এখন চাই দোষীরা যেন শাস্তি পায়।’
একই অভিযোগ করেন শিউলি আক্তার নামে আরেক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাতার টাকা পাচ্ছি না। কারা যেন আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা তুলেছে। সরকার যেন আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেয় এবং দোষীদের শাস্তি দেয়, এটাই আমাদের দাবি।’
সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, ‘যাদের ভাতা পাওয়ার কথা, তারা অভিযোগ করছেন, টাকা পাচ্ছেন না। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি। কমবেশি প্রতিটি ইউনিয়নে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে।’
জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঢাকা অফিস থেকেও এ নিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংশোধনের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’