প্রধানমন্ত্রীর নাটোরের উত্তরা গণভবনে দর্শনার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও প্রধান ফটকের সামনের চত্বর,পাশের আমবাগান ও কালিপুকুর ঘিরে সুশৃঙ্খল পরিবেশের পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন ইভেন্ট চান দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় পরিবেশবিদ, বিনোদনপ্রেমী ও সচেতন মহল তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
তথ্যমতে,নাটোরের উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটের মাধ্যমে পরিদর্শনের সুযোগ সৃষ্টির পর থেকে দিন দিন বেড়েই চলছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের চলাচলে মুখর থাকে উত্তরা গণভবন চত্বর।
দর্শনার্থীদের দাবি, ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে পরিদর্শন টিকেটের মূল্য। কিন্তু বাড়েনি কোন ইভেন্ট বা রাইড ব্যবস্থা বরং বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি।
গণভবন পরিদর্শনে আসা রাজশাহীর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জাকির জানান, গণভবনের সামনের আমবাগানে মাঝে মাঝেই বাঁশ দেওয়া তাই তারা গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। পাশেই যেখানে সেখানে দোকানপাট, হকারদের চিৎকার-চেঁচামেচি। সামনের রাস্তায় রিকশা, অটোরিক্সা, ভ্যান, ট্রাক আর বাসের আনাগোনায় তারা বিরক্ত।
বগুড়া থেকে আসা পর্যটক শাহিন জানান, গণভবনের ভেতরের দৃশ্য সুন্দর হলেও সামনের পরিবেশ বিশৃঙ্খল। সামনে ব্যাপক জায়গা থাকলেও নেই কোনো ইভেন্ট বা বিনোদন স্পট।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক খাদিজা খাতুন মৌসুমি জানান, গণভবনের ভেতরে প্রায় ৪১.৫ একর আর সামনে ২.৬৮ একর জায়গা রয়েছে। অথচ অধিকাংশ জায়গাই অকেজো পড়ে আছে। এগুলোকে সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে গণভবনকে আরো সমৃদ্ধ করা যায়।
তিনি আরও জানান, গণভবনের ভেতরে যে লেক আছে তাতে স্পিডবোট ছাড়াও ভেতরের আমবাগানে বিভিন্ন রাইড ও ইভেন্ট করা যায়।
খুলনা থেকে আসা পর্যটক সেলিম ইমতিয়াজ জানান, গণভবনের সামনের আম বাগানে দোকানিরা বাঁশ দিয়ে কেনা-বেচার জায়গা করেছেন। পাশের বাগানে চটপটিসহ বিভিন্ন দোকান বসেছে। গণভবনের মূল ফটকের সামনের নানা দোকান। এছাড়া বিভিন্ন পান, বিস্কুট ও চায়ের দোকানের পাশাপাশি বসেছে হোটেল। অথচ বাগান সংলগ্ন পুকুরের পাড় ঘেঁষে সমস্ত দোকান বসানো সম্ভব। ওই পুকুরসহ পাশাপাশি তিনটি পুকুরে কিছুটা পরিকল্পনা করে স্পিডবোটে বেড়ানোসহ ঝুলন্ত সেতু করা যায়। তাহলে সামনের ২.৬৮ একরের অধিকাংশ জায়গা ফাঁকা হবে। ওই জায়গায় নানা ইভেন্ট ও রাইডসহ মিনি পার্ক করা যায়। পিকনিকে আসা লোকজনের রান্নার সুবিন্যস্ত জায়গা করা যায়। এতে উত্তরা গণভবনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে এবং বাড়বে রাজস্ব আয়।
স্থানীয় দোকানি রাজা জানান, করোনার পর থেকে ওই আমবাগানে দীর্ঘদিন শনি আর মঙ্গলবারে হাট বসতো। সম্প্রতি ওই হাটটি দিঘাপতিয়া বাজারে আগের জায়গায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই বাগানে দোকানীদের লাগানো বাঁশগুলো সরানো হয়নি।
পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বী জানান, গণভবনের ভেতর ও বাহিরের আম বাগানে বিভিন্ন ইভেন্ট, রাইডার ও পিকনিক স্পট করলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অপরদিকে নিয়মিত দেখাশোনা ও পরিষ্কারের লোক থাকায় পরিবেশ উন্নত হবে। এতে অযত্ন অবহেলায় থাকা গাছগুলো প্রাণ ফিরে পাবে।
নাটোরের সংস্কৃতিকর্মী অ্যাডভোকেট খগেন্দ্রনাথ রায় জানান, গণভবনের ভেতরে বাহিরে আরো রাইডার ও ইভেন্ট বাড়ানোর পাশাপাশি মিনি পার্ক করা গেলে দর্শনার্থীদের বিনোদন ও বেড়ানোর আকর্ষণ বাড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনডিসি সোহাগ বাবু নাটোর জেলা প্রশাসনের বরাতে জানান, গণভবনে আসা পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আকর্ষণ বাড়াতে নানা উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কামাল মৃধা/নাঈম