প্রতিষ্ঠার ২৪ বছরেও পটিয়া পৌরসভায় কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। পৌর এলাকার আবর্জনা ফেলা হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরের যাত্রীরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করার সময় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। সংকট থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু এরপরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহসাই এ সমস্যার সমাধান মিলবে না।
সরেজমিনে শ্রীমাই ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ। যানবাহনে চলাচল করা যাত্রীরা নাক চেপে ধরছেন। পটিয়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৯টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন ময়লা সংগ্রহ করা হয়। তারপর সেগুলো ট্রাকে মহাসড়কের শ্রীমাই ব্রিজ এলাকায় ফেলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মারুফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘বছরের পর বছর রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। শিশুরা সকালে নাক চেপে স্কুলে যায়। কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনো দৃষ্টি নেই।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মিশু দের মুখেও একই অভিযোগ ফুটে ওঠে।
পথচারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। আমরা তো এ সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, দূরপাল্লার গাড়ির যাত্রীরাও এর থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।’ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. রহিমের অভিযোগ, ‘যাত্রী নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না। দুর্গন্ধে অনেকে বমি করে ফেলেন।’
দুর্গন্ধের কারণে মহাসড়কের এই অংশটি এখন স্থানীয়দের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। অথচ যাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তারা সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছেন। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কর্মসূচি পালন করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘পটিয়া সচেতন নাগরিক ফোরাম’র উদ্যোগে ‘নাকধরা কর্মসূচি’ পালন করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেছেন, ‘আবর্জনা থেকে ক্ষতিকর উপাদান বৃষ্টির পানিতে মিশে খালে গিয়ে পড়ে। সেই পানি দিয়ে সেচ দিলে ফসলের ক্ষতি হয়।’
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু তৈয়ব বলেন, ‘ময়লার স্তূপের কারণে বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, অ্যালার্জিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সড়কের পাশ থেকে ময়লার স্তূপ সরানো জরুরি।’
যদিও তা এখনই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। নানা জটিলতায় এখনই এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আশা করছি, ভবিষ্যতে সমাধান হবে।