নাটোরের দিঘাপতিয়া গ্রামে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় বাসভবন ‘উত্তরা গণভবন’। দিঘাপতিয়া সংলগ্ন একটি গ্রামের নাম ভাটোদাঁড়া। গ্রামটি ২০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের এই গ্রামের অধিকাংশই পেশায় দিনমজুর।
ভাটোদাঁড়া গ্রামের একদিকে রয়েছে উত্তরা গণভবন, অন্যদিকে রয়েছে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ। আর গ্রামটির পাশেই রয়েছে নাটোর ডিসি অফিস ও এসপি অফিস। এর পরেই রয়েছে নাটোর জেলা শহর। গ্রামটির মাঝ দিয়ে চলে গেছে নাটোর-বগুড়া হাইওয়ে। ওই গ্রামে রয়েছে প্রায় পৌনে ৬০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ। রয়েছে দিঘাপতিয়া রাজার প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দির। প্রতিবছর ওই মন্দিরে বসে তিন দিনব্যাপী কালীপূজা ও মেলা। মেলায় ২৫০-৩০০টি করে পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। এসব কারণেই দেশব্যাপী গ্রামটির পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু এই গ্রামে নেই কোনো ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ওই গ্রামের শিশুরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে অবস্থাসম্পন্ন ও সচেতন কিছু পরিবার তাদের সন্তানদের দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করাচ্ছে। অসচ্ছল পরিবারের লেখাপড়ার সুযোগবঞ্চিত এসব শিশু এক সময় দিনমজুরসহ পূর্বপুরুষদের বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ে।
গ্রামের অধিবাসী আবুল কালাম জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে ওই গ্রামে একটি নৈশবিদ্যালয় স্থাপিত হলেও তা বেশিদিন চলেনি। এরপর এনজিও পরিচালিত একটি স্কুল কিছুদিন চলার পর তাও বন্ধ হয়ে যায়।
গ্রামপ্রধান বাহার উদ্দিন জানান, বর্তমানে ওই গ্রামের কামানগাড়ি বিলের পাশাপাশি ভাটোদাঁড়া বিলেও বসতি গড়ে উঠেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৩০০-৩৫০ পরিবারের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের বসবাস। অথচ এই গ্রামের জন্মলগ্ন থেকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তাই এখানে শিক্ষার হার খুবই কম। অথচ পাশের দিঘাপতিয়া গ্রামে রয়েছে কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল। এমনকি সেখানে একটি কলেজও রয়েছে। অন্যদিকে ফুলবাগান গ্রামেও রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। আশপাশের সব গ্রামেই অন্তত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অথচ এই গ্রামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই গড়ে ওঠেনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হবে। বর্তমানেও বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।